ধ্রুব ডেস্ক
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আসা পবিত্র মাহে রমজানের আজ দ্বিতীয় দিন। মুমিন মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সিয়াম সাধনায় নিমগ্ন। রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত ও ফজিলতে পূর্ণ থাকলেও দিনভেদে এর রয়েছে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্য।
ফারসি শব্দ 'রোজা'র আরবি পরিভাষা হলো 'সওম' (একবচনে) বা 'সিয়াম' (বহুবচনে)। যার অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার, পাপাচার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাই হলো সওম বা রোজা। এটি ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ।
ইসলামী রেওয়ায়েত ও বিভিন্ন বর্ণনায় রমজানের ৩০ দিনের পৃথক পৃথক মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়— "এই দিনে মহান আল্লাহ রোজাদারের মা-বাবাকে ক্ষমা করে দেন।" সন্তান হিসেবে পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। মাহে রমজানের বরকতে রোজাদারের উসিলায় তাঁর বাবা-মায়ের গুনাহ মাফ হওয়া পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাই দ্বিতীয় রোজার দিনে নিজের ইবাদতের পাশাপাশি পিতা-মাতার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা রোজার আবশ্যকতা বর্ণনা করে সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেছেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হতে পারো।"
উল্লেখ্য যে, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে রোজা ফরজ সংক্রান্ত এই বিধান নাজিল হয়। একই সূরার ১৮৫ নম্বর আয়াতে আরও বলা হয়েছে, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে।"
ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, রমজান হলো মূলত ধৈর্য ও সংযমের মাস। এই মাসে ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্যের মাধ্যমে মুমিন বান্দা অন্যের কষ্টের প্রতি সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা পায়। হাদিসে এসেছে, ধৈর্যের সওয়াব হলো জান্নাত। এছাড়া এই পবিত্র মাস মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়ার মাস হিসেবেও গণ্য।
পরিশেষে, দ্বিতীয় রমজানের শিক্ষা হোক পিতা-মাতার প্রতি বিনম্র হওয়া এবং সিয়াম পালনের মাধ্যমে তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবার রোজা ও ইবাদত কবুল করুন।