আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চীনসহ বিভিন্ন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছেন। ওই ব্যক্তিরা শিক্ষাবিদ সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারী, যিনি একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী এবং তেলেঙ্গানার বাসিন্দা, বর্তমানে জম্মুর গান্ধী নগর থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অজান্তেই এক ফাঁদে পা দিয়েছিলেন; তিনি বুঝতে পারেননি যে, যাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছিলেন তারা কোনো শিক্ষাবিদ নন, বরং চীনের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য।
এ ঘটনায় গান্ধী নগর থানায় ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-এর ১৫২ ও ৬১(২) নম্বর ধারার অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এর ৩ নম্বর ধারার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর তথ্য সংগ্রহ বা আদান-প্রদান সংক্রান্ত অপরাধগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; অন্যদিকে, ৫ নম্বর ধারায় সংরক্ষিত তথ্য অন্যায়ভাবে আদান-প্রদান, নিজের কাছে রাখা বা তা নিয়ে কাজ করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শিক্ষাবিদ সেজে আসা কয়েকজন চীনা এজেন্ট ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাকে কৌশলগত ও কার্যক্রমগত গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নিবন্ধ ও লেখা তৈরি করতে বাধ্য করে, যা পরে প্রকাশিত হয়।
শুরুতে তারা তাকে পরিবেশ ও ভূ-জনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে লিখতে দিয়েছিল এবং ধীরে ধীরে তারা তাকে প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিষয়াবলীতে মনোনিবেশ করতে বাধ্য করে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই নারী অজান্তেই এক ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদে’ পা দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারেননি যে, যারা শিক্ষাবিদ হিসেবে তার কাছে এসেছিল, তারা আসলে ছিল এমন সব এজেন্ট, যারা সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
সূত্র অনুযায়ী, একটি নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারী নজরদারির আওতায় আসেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত সংবেদনশীল নথিপত্র, আলোকচিত্র এবং ইলেকট্রনিক তথ্য গোপনে সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা ও তা অন্য কোথাও পাঠানোর কাজে জড়িত ছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এই ধরনের তথ্য এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল।