আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। কয়েক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছেন অ্যারোস্পেস ও সামরিক প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের মূল দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে ন্যস্ত হলো।
উল্লেখ্য, পূর্বসূরি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকে পদটি খালি ছিল। সেই সংকটময় সময়ে সাময়িকভাবে মন্ত্রণালয়ের হাল ধরেছিলেন মাজিদ ইবন আল-রেজা। নতুন এই স্থায়ী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রশাসনে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কেতাবচির মূল শক্তিস্থল তাঁর অ্যারোস্পেস খাতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এর আগে তিনি ইরানের ‘অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আধুনিক সামরিক কৌশলে মহাকাশ প্রযুক্তি, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই খাতে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই নতুন নেতৃত্বের আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন মেয়াদে তিনি সামরিক সরঞ্জামের স্বনির্ভরতা কিংবা অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন বা কৌশলগত নীতি গ্রহণ করবেন, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা ও সামরিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর মূল চ্যালেঞ্জ।