আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি ছবি: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সম্প্রতি এই নৌপথে পরপর কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে মাইন হামলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণের পর সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে কারণ দর্শিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজই এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না। ইরানের এই সিদ্ধান্ত ও জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ আন্তর্জাতিক এই নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা করলে তাকে মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা বা আশ্রয়ে নিয়ে কোনো জাহাজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে সেসব জলযানের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে আইআরজিসি।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে একের পর এক নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটে। কয়েক দিন আগে পানির নিচে থাকা একটি মাইনের আঘাতে একটি বিশালাকার তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই সৌদি আরবের জলসীমার কাছাকাছি স্থানে আরও দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। পরপর এসব আন্তর্জাতিক ট্যাংকার আক্রমণের ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম মূল ধমনি। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশই প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দীর্ঘমেয়াদে অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামকে হঠাৎ করে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা ও ইরনা