আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কারাজে অবস্থিত ইরানের ঘেজেল হিসার বন্দীখানা ছবি: সংগৃহীত
ইরানে বসবাসকারী আফগান নাগরিকদের ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই প্রতি মাসে গড়ে অন্তত এক জন করে আফগান বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে এবং বর্তমানে আরও বহু আফগান নাগরিক ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে নিজ দেশের নাগরিকদের বাঁচাতে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ আফগানদের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে এই মৃত্যুদণ্ডগুলো দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের অধিকাংশই আইনগত সহায়তা বা নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের ন্যূনতম সুযোগ পাননি। এমনকি বিচারকাজ পরিচালনা কিংবা ফাঁসি কার্যকরের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরিবারকেও আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। হত্যা ও মাদক সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি ইসরায়েলের হয়ে গোয়েন্দাগিরি এবং ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো অভিযোগে এসব সাজার দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মূলত শিরাজ, ইয়াজদ ও ইসফাহানের কারাগারগুলোতে এই মৃত্যুদণ্ডগুলো কার্যকর করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ না করে গোপনে ফাঁসি দেওয়ায় নিহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানে আফগানদের ফাঁসির এই ধারা নতুন নয়; সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালেও দেশটিতে অন্তত ৮৫ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। দিন দিন এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও তালেবান প্রশাসন কার্যকর কোনো ভূমিকা না দেওয়ায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে।