আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বীরভূমের মহম্মদবাজারে সরকারি বাসের এক চালকের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও কেজি কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে এখনো টাকা গোনা চলছে। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকারি সম্পদ বা জনগণের টাকা লুট করে যাঁরা বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ওই বাড়ি থেকে ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।
আরো পড়ুন : ড্রাইভারের বাড়িতে টাকার খনি, গুনতে আনা হয়েছে ৫টি মেশিন
মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় মিনার মণ্ডলের বাড়ি হঠাৎ ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে পুলিশের একটি বড় দল। রাতে শুরু হওয়া এই অভিযান সকাল পেরিয়ে এখনো চলছে। গোপন সূত্রের খবর, বাড়িটিতে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল পাওয়া গেছে। ঠিক কত টাকা রয়েছে তা হিসেব করতে ৫টি নোট গোনার যন্ত্র আনা হয়েছে এবং টাকা পরিবহনের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে বড় বড় ট্রাঙ্ক। প্রাথমিকভাবে ৮ থেকে ১০ কেজি সোনা ও কয়েক কোটি টাকা উদ্ধারের কথা জানা গেলেও, পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পেশায় সরকারি বাস চালক হলেও মিনার সরাসরি পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং টুলু মণ্ডলের একাধিক খাদানের সঙ্গে তাঁর সরাসরি অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এক বাস চালকের বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সোনার উৎস কী এবং তা বেআইনি আয়ের টাকা কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই তল্লাশি ঘিরে দেউচা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বীরভূমের পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি পাথর খাদান পরিচালনা এবং গরু পাচার মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাঁর বাড়ি ও অফিসে হানা দিয়েছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই টুলুর আত্মীয়ের বাড়িতে এই পুলিশি হানা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে, যদিও উদ্ধার হওয়া সম্পদের সঙ্গে টুলুর সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না তা তদন্তাধীন।
ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে বলেন, "দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় থাকবে।" তিনি সতর্ক করে দেন, তদানীন্তন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাঁত করে বা অন্যায় পথে সম্পত্তি গড়লে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা ঘটনাটিকে রাজ্যের পরিবর্তনের ফল হিসেবে উল্লেখ করে দুর্নীতির সব টাকা উদ্ধার ও তা জনকল্যাণে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।