আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওড়িশা রাজ্যের ভুবনেশ্বরের এমপি অপরাজিতা সারাঙ্গি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের পর উল্লাস প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন বিজেপির এক এমপির মেয়ে অর্চিতা সচিন রাহার। পরে ওই পোস্ট ডিলিট করতে এমপি নিজেই তার মেয়েকে অনুরোধ করেন। রাহারের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারীর চাপে তার মা ওই অনুরোধ করেন।
ওড়িশা রাজ্যের ভুবনেশ্বরের ওই এমপির নাম অপরাজিতা সারাঙ্গি। শনিবার ইনস্টাগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ছবি আপলোড করে রাহার লিখেন, ‘নিট ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেন।’
রাহার একদিকে উল্লাস প্রকাশ করলেও তার মা অপরাজিতা সারাঙ্গি নিজের দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তার দপ্তরের সহকারী ধনেশ্বর বারিক বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘সবারই নিজের মত প্রকাশের অধিকার আছে। এমপির মেয়ে জেনারেশন জেড প্রজন্মের। তিনি তার বক্তব্যে অনড়। নিজের মনের কথা বলার অধিকার তাঁর আছে।’
মেয়ের পোস্টের কারণে অপরাজিতা সারাঙ্গি কোনো বিপাকে পড়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ধনেশ্বর বারিক বলেন, ‘সময় গড়ালে বোঝা যাবে।’ অপরাজিতা বিজেপির হয়ে ভুবনেশ্বর থেকে দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মেয়ের পোস্ট নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একটি সূত্রে জানা গেছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের অফিস থেকে ফোন পাওয়ার পর রাহারকে পোস্ট ডিলিট করতে বলেছিলেন অপরাজিতা। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। রাহার পরে ইনস্টাগ্রামে আরেকটি পোস্ট দিয়ে তাঁর মায়ের ওপর চাপ আসার কথা জানান। তিনি লিখেন, ‘ডিপির (ধর্মেন্দ্র প্রধান) পিএকে (ব্যক্তিগত সহকারী) বলছি, দয়া করে কষ্ট করবেন না। আমি ডিলিট করব না।’
এদিকে ওড়িশার বিজেপি নেতারা রাহারের পোস্টের সমালোচনা করেছেন। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হওয়া জগন্নাথ প্রধান বলেন, ‘নিজের পরিবারের সদস্যদের ওপর অপরাজিতার নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। তাঁর উচিত ওড়িশার জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। ধর্মেন্দ্র প্রধান ওড়িশা ও ভারতের জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন।’