আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ড্রোন সোয়ার্ম এটাকের বিপক্ষে বিধ্বংসী অস্ত্র মরফিয়াস এক্স রোটর ছবি: লকহিড মার্টিন
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ঝাঁক বা ‘সোয়ার্ম’ আক্রমণ এক বিরাট আতঙ্কের নাম। এই ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় এবার যুগান্তকারী এক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামনে নিয়ে এল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। যুক্তরাজ্যের ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারশোতে তারা উন্মোচন করেছে ‘মরফিয়াস এক্স-রোটর’ নামের একটি অত্যাধুনিক হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ (এইচপিএম) অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম। এটি এমন এক প্রযুক্তি, যা এক মিশনেই শত্রুপক্ষের অন্তত ৫০টির বেশি ড্রোনকে মুহূর্তের মধ্যে বিকল করে দিতে সক্ষম।
ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ‘মরফিয়াস’ সিস্টেমটি মূলত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ ব্যবহার করে কাজ করে। আকাশে থাকা ড্রোনের ইলেকট্রনিক সিস্টেম ও সেন্সরগুলো এই তরঙ্গের আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে অচল হয়ে যায়। লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, এই ব্যবস্থাটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা। অর্থাৎ, একবার মিশন শেষ হওয়ার পর এটিকে উদ্ধার করে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে সামরিক বাহিনীর সার্বিক পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রচলিত লেজার বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সাধারণত একবারে একটিমাত্র লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করা যায়। কিন্তু মরফিয়াসের মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সঙ্গে একাধিক ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক উপাদান ধ্বংস করা সম্ভব। ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে এটি দারুণ কার্যকর। এছাড়া সিস্টেমটি পরিচালনার জন্য আলাদা কোনো ফায়ার-কন্ট্রোল রাডারের প্রয়োজন হয় না। এটি সেন্সর-নির্ভর নয় এবং সামরিক বাহিনীর বিদ্যমান কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থার সঙ্গেই খুব সহজে যুক্ত করে ব্যবহার করা যায়।
২০১৭ সাল থেকে পরীক্ষিত মরফিয়াস সিরিজের পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর সফলতার ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক এই এক্স-রোটর তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওকলাহোমায় একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এর নিখুঁত কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে লকহিড। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মিসাইলস অ্যান্ড ফায়ার কন্ট্রোল অ্যাডভান্সড প্রোগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার র্যান্ডি ক্রাইটস জানান, কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিতে মরফিয়াস সম্পূর্ণ নতুন এক মানদণ্ড স্থাপন করেছে। কম খরচে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন মোকাবিলায় এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য মাইক্রোওয়েভ ব্যবস্থাটি নিখুঁত সমাধান দিতে প্রস্তুত।
বর্তমানে বিশ্বজুড়েই ড্রোনের হামলা থেকে বাঁচতে হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ (এইচপিএম) প্রযুক্তির কদর ব্যাপকভাবে বাড়ছে। লকহিড মার্টিনের পাশাপাশি আরেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘ইপিরাস’ ইতোমধ্যে ‘লিওনিডাস’ নামের অনুরূপ একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া বোয়িংয়ের ফ্যান্টম ওয়ার্কস ও মার্কিন বিমানবাহিনীর গবেষণাগারও এই প্রযুক্তি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরদিকে, ক্রমাগত ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকা ইসরায়েল বর্তমানে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বেশি বিনিয়োগ করলেও, একসঙ্গে একাধিক ড্রোন বিকল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার কারণে তাদের কাছেও মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।