আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অতিবৃষ্টিতে প্লাবিত হওয়া চিলির আরাউকো শহর ছবি: রয়টার্স
চিলির দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হওয়া আকস্মিক ও শক্তিশালী একটি ঝড় পরবর্তীতে দেশটির সাধারণত শুষ্ক ও খরাপ্রবণ অঞ্চলগুলোতেও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। গত ১৫ জুলাই চিলির দক্ষিণে উৎপত্তি হওয়া এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে বিশেষ করে কোকুইম্বো এবং আতাকামা অঞ্চলের মতো এলাকাগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ অতিবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। সাধারণত শুষ্ক হিসেবে পরিচিত এসব ভৌগোলিক অঞ্চলে এমন চরম অতিবৃষ্টির ঘটনাকে আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করেছেন।
ঝড় ও তার পরবর্তী ভয়াবহ বন্যায় চিলির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা 'সেনাপ্রেড'-এর পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, "ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অন্তত ৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।"
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ২,৮০০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আকস্মিক হড়কা বানের পাশাপাশি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং কাদা ও পাহাড়ি ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক শহর ও লোকালয় এখন পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন।
উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি জনপদগুলোতে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা স্থানীয় প্রবীণ অধিবাসীদের জন্যও এক নতুন আতঙ্ক। কোকুইম্বোর ৫৭ বছর বয়সী স্থানীয় কমিউনিটি নেত্রী প্যাট্রিসিয়া আলবর্নোজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন:
"আমার জীবনের ৫৭ বছরে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় কখনো দেখিনি। নদী ও খালের পানি চোখের সামনে উপচে পড়ে লোকালয় ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের।"
চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লদিও আলভারাদো জানিয়েছেন, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে পানির উচ্চতা ও নদীর প্রবাহ এখনও বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকায় ঝুঁকি কাটেনি। দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত বেগবান করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত।
প্রশাসন বর্তমানে উদ্ধারকারী দল, সেনাপ্রেডের সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।