আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। গ্যাসের দাম বেড়েছে। কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা রেকর্ড সংখ্যায় দল ছাড়ছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আগ্রহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। এ অবস্থায় অশুভ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন রিপাবলিকান পার্টি। দলটির নেতাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী শরতে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
গত সোমবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাউস এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ, যা কিছুদিন আগেও জিওপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল– ক্রমেই হাতবদলের ঝুঁকিতে পড়ছে। কারণ, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রতিটি স্তরেই বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ করছেন। রিপাবলিকান পার্টির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী দল ছাড়ছেন।
ব্যক্তিগতভাবে, রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদরা এ অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশকে বর্ণনা করার জন্য বিষণ্ণভাবে সমার্থক শব্দ বিনিময় করছেন– তিক্ত, কুৎসিত, খারাপ, হতাশাজনক। তারা বলছেন, নভেম্বরের আগে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। তারা এই আশায় আছেন, নির্বাচনের আগেই গ্যাসের দাম ৪ ডলার কমবে এবং ইরান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
রিপাবলিকান দলের সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচ বলেন, ‘নির্বাচন যদি মে মাসে হতো, তাহলে রিপাবলিকানরা হেরে যেত।’ এই শরতে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষার জন্য তিনি তাঁর দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
রিপাবলিকানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন বাস্তবতাকে আরেকটু ভালোভাবে বোঝেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও অনেক উন্নত করেন। নিউট বলেন, ‘জিততে হলে যুদ্ধ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও পেট্রোলের দামের মতো বিষয়গুলোকে আগে পরিষ্কার করতে হবে। যদি এর পরিবর্তন না হয়, তাহলে হতাশায় নিজের চুল ছিঁড়তে শুরু করব।’
জরিপে জনপ্রিয়তায় ধস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাপ্রুভাল রেটিং বা জন-অনুমোদনের হার ৪০-এর কাছে ঘোরাফেরা করছে। এটা অতীতের অনেক প্রেসিডেন্টের চেয়ে কম। গতকাল মঙ্গলবার সিএনএন-এসএসআরএসে তাঁর জন-অনুমোদন হার ছিল ৪১ শতাংশ। ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউতে এ হার ছিল ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ।
কিন্তু এর বাইরেও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ আছে। তরুণ ও পুরুষ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা কমেছে ট্রাম্পের। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চের শেষ ম্যারিস্ট ও কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় একটি জরিপ চালায়। ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেন বলেন, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টি জিতেছিল পুরুষ ভোটারদের সমর্থনে। কার্যত পুরুষ ভোটাররাই রিপাবলিকান দলের শক্তি। তবে তারা এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরিত্যাগ করছেন।
এন্টেন বলেন, ‘একটু দেখুন, এতেই সব ফাঁস হয়ে যায়। আচ্ছা, ২০২৪ সালের নভেম্বরে পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান– তিনি তাদের মধ্যে কমলা হ্যারিসকে ১৩ পয়েন্টে হারিয়েছেন। দেখুন, এখন তাঁর নেট অ্যাপ্রুভাল রেটিং কোথায়। তিনি নিচে নেমে গেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এটি ২০ পয়েন্টের একটি পরিবর্তন। এ নির্দিষ্ট মুহূর্তে পুরুষদের মধ্যে তিনি এখন ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে আছেন।’ হ্যারি এন্টেন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের এতটা পিছিয়ে থাকার কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভালো করা খুব কঠিন হবে।
প্রেসিডেন্টের জন্য এন্টেন দুঃসংবাদ দেওয়া এখানেই শেষ করেননি। তিনি বলেন, ‘আচ্ছা, এটা তো সামগ্রিকভাবে পুরুষদের কথা। কিন্তু সেই সব তরুণ পুরুষদের কী হবে, যারা সত্যিই প্রভাবশালী ছিলেন?’ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তরুণরা। অবশ্যই ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তরুণদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ব্যাপক সমর্থন বেড়েছিল। আর বর্তমান পরিস্থিতি দেখুন।