Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল, উদন্তকারীর বর্ননা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল,২০২৬, ০৬:০৪ এ এম
আপডেট : বুধবার, ২৯ এপ্রিল,২০২৬, ১০:২৮ এ এম
লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল, উদন্তকারীর বর্ননা

জামিল আহমেদ লিমন, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রোমহর্ষ বর্ণনা তুলে ধরেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। ২৭ বছর বয়সী এই দুই শিক্ষার্থীকে সবশেষ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দেখা গিয়েছিল। এক সপ্তাহ পর লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়। বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

এই হত্যার ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানির জন্য স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা ছিল। হত্যার অভিযোগ থাকাকালে আবুঘরবেহকে কারাবন্দী রাখতে আদালতের কাছে গত সপ্তাহে আবেদন করেছিলেন আইনজীবীরা।

এ ছাড়া ওই আবেদনে একটি বিস্তারিত সময়রেখাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তদন্তকারীদের ধারণা অনুযায়ী কীভাবে লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁদের ও সন্দেহভাজন আসামির কর্মকাণ্ডের বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে।

এপ্রিল ১৬: লিমন-বৃষ্টির সঙ্গে শেষ যোগাযোগ

গত শনিবার হিলসবরো কাউন্টি আদালতে আবেদনটি করেছিলেন সরকারি আইনজীবীরা। এতে বলা হয়েছে, ১৬ এপ্রিলেও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল লিমন ও বৃষ্টির। দুই শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যেও অল্প সময়ের জন্য ফোনালাপ করেছিলেন। তবে এর পরে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আদালতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে ১৬ এপ্রিল দিনের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) ক্যাম্পাসে হাঁটাচলা করতে দেখা যায়। সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর চশমা নেওয়ার জন্য এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। তবে বৃষ্টি যাননি। এমনকি ওই বন্ধু তাঁকে ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি।

লিমনের মুঠোফোনের অবস্থান অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে তাঁর আবাসস্থল ও ক্যাম্পাসের কাছাকাছি তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান দেখা যায়। লিমনের বসবাসের স্থান থেকে ক্লিয়ারওয়াটারের দূরত্ব মোটামুটি ৩২ মাইল।

আইনজীবীরা বলেছেন, লিমনের মুঠোফোনের অবস্থান ক্লিয়ারওয়াটারে দেখানোর ১০ মিনিটের মধ্যে ওই এলাকায় যেতে দেখা যায় আবুঘরবেহের সাদা রঙের হুন্দাই জেনেসিস জি-৮০ মডেলের গাড়িটিকে। মুঠোফোন ও গাড়ি চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সে রাতে আবুঘরবেহ ও লিমনের মুঠোফোনের অবস্থানের মধ্যে মিল ছিল।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিভিএস নামে ওষুধ ও খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে আবুঘরবেহের মুঠোফোন থেকে আবর্জনা রাখার ব্যাগ, ঘর পরিষ্কার করার লাইজল, দুর্গন্ধনাশক ফেব্রিজ ও অন্য কিছু পণ্যের অর্ডার করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের দরজায় পণ্যগুলো পৌঁছে দেয় সরবরাহ সেবা প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ।

আদালতে করা আবেদন অনুযায়ী, লিমন ও আবুঘরবেহের অন্য একজন রুমমেট দেখতে পান, আবুঘরবেহ একটি চাকাওয়ালা ট্রলি ব্যবহার করে তাঁর ঘর থেকে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ময়লা ফেলার স্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

এপ্রিল ১৭: দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর

মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার হলফনামায় বলা হয়েছে, হিশাম আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটির কাছে একটি বিষয় জানতে চেয়েছিলেন, তা হলো ‘হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়িতে তল্লাশি করা হয়?’ ১৭ এপ্রিল রাত ১টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে দুইবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে গিয়েছিলেন তিনি।

এরই মধ্যে লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এর পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃষ্টির কাজের জায়গায় তল্লাশি করে পুলিশ। সেখান থেকে তাঁর খাবারের বাক্স, একটি ম্যাকবুক, আইপ্যাডসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।

এপ্রিল ২২: সন্দেহভাজনের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ

আদালতে করা আবেদন অনুযায়ী, হিশাম আবুঘরবেহের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে সবশেষ ১৮ এপ্রিল আবুঘরবেহের দেখা হয়েছিল। মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না। এ ছাড়া অতীতে পরিবারের সঙ্গেও সহিংস আচরণ করেছিলেন তিনি।

২০২৩ সালে শারীরিক আঘাত বা লাঞ্ছনার অভিযোগে দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আবুঘরবেহ। পরে অভিযোগগুলো তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাগুলোর একটির পর তাঁর ভাই একটি নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের পর আবুঘরবেহকে তাঁর ভাইয়ের কাছে বা তাঁর বাড়িতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের মে মাসে সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়।

২৩ এপ্রিল: তল্লাশি অভিযান

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর অবস্থাকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে উল্লেখ করে। তদন্তকারীরা একটি ময়লা ফেলার স্থানে তল্লাশি চালান। সেখানে তাঁরা রক্তমাখা একটি কালো রঙের ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির মুঠোফোনের কভার এবং লিমনের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক খুঁজে পান।

হলফনামায় বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টিকে শেষ কবে দেখেছিলেন, সে বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেন আবুঘরবেহ। প্রথমে তিনি গোয়েন্দাদের বলেন, ওই দুজন কখনোই তাঁর গাড়িতে ওঠেননি। তিনি নিজেও ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় যাননি। কিন্তু যখন আবুঘরবেহের গাড়ি ক্লিয়ারওয়াটারে থাকার প্রমাণ দেখানো হয়, তখন তিনি দাবি করেন যে তিনি সেখানে মাছ ধরার জায়গা খুঁজতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি আবারও কথা বদলে গোয়েন্দাদের বলেন, লিমন তাঁর বান্ধবীসহ ক্লিয়ারওয়াটারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

আদালতে করা আবেদন অনুযায়ী, এই জিজ্ঞাসাবাদের সময় আবুঘরবেহের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ জড়ানো ছিল। তিনি দাবি করেন যে পেঁয়াজ কাটার সময় এই ক্ষত হয়েছে। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, গোয়েন্দারা আবুঘরবেহের বাঁ হাতের ওপরের অংশে একটি টাটকা ক্ষত এবং দুই পায়ে আরও কিছু কাটার দাগ লক্ষ করেন। আইনজীবীরা বলেছেন, ২৩ এপ্রিল আবুঘরবেহ আবারও চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘নিখোঁজ বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বলতে কী বোঝায়?’

এপ্রিল ২৪: খোঁজ পাওয়া গেল লিমনের মরদেহের

আদালতে করা আবেদন অনুযায়ী, হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে তল্লাশি চালিয়ে কালো রঙের একটি আবর্জনার ব্যাগ খুঁজে পান গোয়েন্দারা। আবুঘরবেহের ফোনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল ওই জায়গাতে থেমেছিলেন তিনি।

সরকারি কৌঁসুলিরা বলছেন, আবর্জনার ওই ব্যাগ আবুঘরবেহের বিছানার নিচে পাওয়া ব্যাগগুলোর মতো। আদালতে করা আবেদনে তাঁরা আরও বলেছেন, সেতুতে পাওয়া ব্যাগের ভেতর থেকে একজন পুরুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। সেগুলো লিমনের বলে শনাক্ত করা হয়।

আদালতে করা আবেদনে লিমনের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চিকিৎসা-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর শরীরে অনেক আঘাতের মধ্যে একটি হলো কোমরের নিচের দিকে একটি গভীর ছুরিকাঘাত। সেটি তাঁর যকৃৎ ফুটো করে দিয়েছিল। ওই দিন সকালেই ফ্লোরিডার লুটজ এলাকার একটি বাড়ি থেকে আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২৫ এপ্রিল: আদালতে তোলা হয় আসামিকে

এদিন সকালে আবুঘরবেহকে প্রথমবারের মতো আদালতে তোলা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার অভিযোগ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলো হলো—বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানো, গোপন করার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর খবর না জানানো, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং শারীরিক লাঞ্ছনা।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)