Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

হরমুজে আবারও বাধার মুখে “বাংলার জয়যাত্রা”

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ এপ্রিল,২০২৬, ১১:০৪ এ এম
আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল,২০২৬, ১১:২৪ এ এম
হরমুজে আবারও বাধার মুখে “বাংলার জয়যাত্রা”

“বাংলার জয়যাত্রা” জাহাজটি এর আগেও চেষ্টা করে এ জলপথ পার হতে পারেনি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির একেবারে কাছে গিয়েও পার হতে পারল না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

ইরানি নৌবাহিনীর ‘অনুমতি’ না মেলায় জাহাজটি আবারও তার আগের অবস্থানে অর্থাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের জলসীমার বাইরে ফিরেছে।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার গভীর রাত দেড়টার দিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করে জাহাজটি দিক ঘুরিয়ে আগের অবস্থানে ফিরে আসার জন্য রওনা দেওয়ার কথা জানান ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক শুক্রবার গভীর রাতে বলেন, ‘জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি। সেটি আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে হরমুজ প্রণালির দিকে রওনা দেয়। গভীর রাতে সারবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছায়।

তখন বিএসসির এমডি বলেছিলেন, “চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স পেলে আজ রাতেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে জাহাজটি।”

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “ইরানের নৌবাহিনী আমাদের জাহাজের হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের আবেদন প্রত্যাখান করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আমরা জাহাজ নিয়ে পুনরায় মিনা সাকার বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।”

বিএসসির মালিকানাধীন জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটির ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হয়ে সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে যাবার কথা ছিল।

এর আগে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে ৮ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি পার হতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে নোঙর তুলে যাত্রা শুরু করেছিল ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় সেই যাত্রায় হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এর আগেও একবার জাহাজটি পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্যে পৌঁছাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তখন আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই পথে না আগানোর পরামর্শ দিলে জাহাজটি আবার ফিরতে বাধ্য হয়।

যুদ্ধের আগে পণ্যবোঝাই করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আরব আমিরাতের জেবেলে আলী বন্দরে প্রবেশ করেছিল।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জেবেল আলী বন্দরের টার্মিনালে অবস্থানের মধ্যেই বন্দরের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনার মধ্যে ‘জয়যাত্রা’র নাবিকরা উদ্বেগ নিয়ে দিন পার করেছেন।

‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে গত ২৬ জানুয়ারি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে সেটি।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর বাংলার জয়যাত্রার মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল।

সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হত। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেয় জাহাজটি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়েছিল।

ধ্রুব/এস.আই

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)