আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কারের সুরক্ষায় রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছেন, তখন নৌ-বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদরা মনে মনে বলছেন, “এমন উদ্যোগ আগেও দেখা গেছে।”
প্রায় চার দশক আগে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে যে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, এবারও সামনে সেই একই শক্তি— ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর্পসের (আইআরজিসি) বাহিনী।
সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, গত শতাব্দীর আশির দশকের সেই ‘ট্যাঙ্কার যুদ্ধে’ এমন অনেক অস্ত্র ও কৌশল খাটানো হয়, যেগুলোর মুখে আজ আবার মার্কিন বাহিনীকে পড়তে হতে পারে।
সেই সংঘাত দেখিয়েছিল, একটা যুদ্ধে পরিস্থিতি কীভাবে চোখের পলকে চরম খারাপের দিকে যেতে পারে এবং প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধ: ইতিহাসে ফিরে দেখা
ট্যাঙ্কার যুদ্ধের বীজ রোপিত হয় ১৯৮০ সালে। ওই সময় ইরানের আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সরকারের প্রতি সন্দেহ থেকে দেশটিতে হামলা চালিয়ে বসেন ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেন।
পাল্টাপাল্টি আঘাতের মধ্যে দিয়ে দুপক্ষ এগিয়ে যেতে থাকে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই যুদ্ধ চার বছরের মাথায় গিয়ে অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
১৯৮৪ সালের দিকে নতুন কৌশল খাটান সাদ্দাম হোসেন। তিনি ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে নিশানা করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া এবং অন্যান্য বিশ্বশক্তিকে যুদ্ধে টেনে আনা।
ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত যুদ্ধবিমান দিয়ে খার্ক দ্বীপে ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় ইরাক। এবারের যুদ্ধে এরই মধ্যে সেখানে বোমা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী।
চার দশক আগের ওই সংঘাতে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে। ইরাকে যুদ্ধের রসদ সরবরাহের অভিযোগে জাহাজগুলোতে হামলা চালাত তেহরান। এসব জাহাজের বেশির ভাগই কুয়েত হয়ে পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্ত দিয়ে যাতায়াত করত।
ইতিহাসবিদ স্যামুয়েল কক্স ২০১৯ সালে এক লেখায় বলেছেন, “ইরাক একপর্যায়ে খার্ক দ্বীপের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলা শুরু করে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘ট্যাঙ্কার যুদ্ধ।”
যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা
পরবর্তী দুই বছরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার প্রবণতা দুই পক্ষেই বেড়ে যায়। ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে নিজেদের পতাকাবাহী জাহাজে বারবার হামলায হওয়ায় শেষমেশ বিদেশি সহায়তা চেয়ে বসে কুয়েত।
প্রথমে সোভিয়েত ইউনিয়ন এগিয়ে আসে। তারা উপসাগরীয় এলাকার ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করে।
অন্যদিকে মস্কোর কাছে ছোট হয়ে যাবে ভেবে কুয়েতি জাহাজগুলোকে নিজের পতাকাতলে পুনঃনিবন্ধনের পরিকল্পনা করে ওয়াশিংটন।
১৯৮৭ সালের গ্রীষ্মে নিজেদের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো উপসাগরে মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এটা করা হয় কুয়েতের ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার জন্য।
কিন্তু এই ‘এসকর্ট মিশন’ বা নিরাপত্তা দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই মার্কিন নাবিকরা বিপদের মুখে পড়েন।
ইউএসএস স্টার্কে হামলা
১৯৮৭ সালের ১৭ মে সন্ধ্যায় পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছিল। কিন্তু ইরানের যুদ্ধজাহাজ ভেবে এতে বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরাক।
কক্স লিখেছেন, “ওই হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রায় ২২০ জন নাবিকের মধ্যে ২৯ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে মৃত্যু হয় আটজনের। আহত হন ২১ জন।”
হামলায় জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু নাবিকদের প্রচেষ্টায় সেটি বাহরাইনের বন্দরে ভেড়ে।
ইরাক এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চায় ঠিকিই। কিন্তু ওই হামলা দেখিয়ে দেয়, যুদ্ধে ভুল সিদ্ধান্ত কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
এবারও ‘ভুল করে’ কুয়েতি বাহিনীর চালানো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন ‘এফ-১৫’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা
তেলবাহী ট্যাঙ্কার সুরক্ষার মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন আর্নেস্ট উইল’। ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসের শেষ দিকে শুরু হয় অভিযান।
২২ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দুটি ট্যাঙ্কার পাঁচটি মার্কিন জাহাজের সুরক্ষায় কুয়েতের উদ্দেশে রওনা হয়। বহরটিতে ছিল একটি ডেস্ট্রয়ার, দুটি ফ্রিগেট এবং কোস্ট গার্ডের দুটি কাটার।
কিন্তু ইরানের কাছে এই কনভয়ের গতিপথ সম্পর্কে যথেষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তারা পথে মাইন বসিয়ে রাখে।
কক্স লিখেছেন, “২৪ জুলাই তেলবাহী ব্রিজেটন নামের ট্যাঙ্কারটি একটি মাইনের সংস্পর্শে আসে। কিন্তু বিশাল ট্যাংকারটি বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলে নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্যাঙ্কারের কার্যক্ষমতা খুব একটা বিঘ্নিত হয়নি।
কিন্তু বিস্ফোরণের ঘটনাটি ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বিব্রতকর।
বহুল প্রচারিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজেটন কুয়েত অভিমুখে যাচ্ছে; আর তার পেছন পেছন যাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগু। দেখে মনে হবে, নিজেদের যুদ্ধজাহাজের সুরক্ষার জন্যই যেন মার্কিন বাহিনী তেলের ট্যাঙ্কারকে ‘মাইনসুইপার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
সমালোচনার মুখে পেন্টাগন সাময়িকভাবে নিরাপত্তা অভিযান স্থগিত করে। তারা জানায়, মাইন অপসারণকারী জাহাজ মোতায়েনের পর অভিযান শুর হবে।
ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউটের জন্য লেখা এক প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোর্পসের সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট কোয়েন্টিন জিমার বলেছেন, ওই সময় মাইন সরানোর মতো জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কম ছিল। ফলে এ ধরনের জাহাজের জন্য মিত্রদের কাছে সহায়তা চাইতে হয় ওয়াশিংটনকে।
জিমার লেখেন, মিত্রদের সহায়তা তাক্ষণিক পেলেও মাইন সরানোর দৌড়ে মাইনসুইপার পেরে উঠছিল না।
আবার মাইনের আতঙ্ক
বর্তমানে সাগরে ইরান কতগুলো মাইন বসিয়েছে, তার সঠিক হিসাব জানা নেই।
গত সপ্তাহে সিএনএনের খবরে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন তেহরান হরমুজ প্রণালিতে কিছু মাইন বসিয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন খবর পাওয়া যায়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মাইন অপসারণকারী জাহাজের সংখ্যা খুবই কম, নেই বললেই চলে। এর মধ্যে চারটি বিশেষায়িত ‘মাইনসুইপার’ গত বছর মেয়াদ শেষ হওয়ায় তুলে নেওয়া হয়েছে।
বিকল্প হিসেবে যে তিনটি জাহাজ মোতায়েনের কথা ছিল, তার মধ্যে দুটি মালয়েশিয়ায় ‘লজিস্টিক্যাল স্টপে’ আছে বলে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নির্বিঘ্ন রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে মাইনসুইপার পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কেউ অবশ্য সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দেয়নি।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, জাপান ও কানাডা বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, তারা হরমুজে নিরাপদ নৌযান চলাচলে তারা ‘উপযুক্ত প্রচেষ্টায়’ অবদান রাখবে। কিন্তু এই প্রচেষ্টার মানে কী, সেই ব্যাখ্যা বিবৃতিতে নেই।
ট্যাঙ্কার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য।
তবে মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা ও তথ্য প্রকল্পের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে ওই সময় সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছিল কেবল মার্কিন বাহিনীই।
মাইন এখনো উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রম সীমিত করে রাখছে বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের সাবেক যৌথ গোয়েন্দা কেন্দ্রের পরিচালক কার্ল শুস্টার।
তার ভাষায়, “মাইন সমুদ্রে শুধু কৌশলগত নয়, মানসিক ভয়ও তৈরি করে।”
তিনি বলেন, এই ভয় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চলাচলের পথকে সংকোচিত করে ফেলতে পারে। সেটা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতাও কমে আসবে।
প্রায় ২ খণ্ড হয়ে যায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
স্যামুয়েল কক্স লিখেছেন, ব্রিজেটনে হামলার পর ২৪টি এসকর্ট মিশনে কোনো সমস্যা হয়নি।
কিন্তু ২৫তম মিশন শেষ করা একটি মার্কিন জাহাজ— স্যামুয়েল বি. রবার্টসের ক্ষেত্রে সেই সৌভাগ্য বজায় থাকেনি।
১৯৮৮ সালের ১৪ এপ্রিল পরবর্তী অভিযানের রসদ নিতে যাওয়ার পথে জাহাজটি ইরানের মাইনফিল্ডে ঢুকে পড়ে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে জাহাজের ক্যাপ্টেন তখন একটিই উপায় দেখেন, যেদিক দিয়ে ঢুকেছেন, সেদিক দিয়েই ফিরে যাবেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। যুদ্ধজাহাজটি একটি মাইনে আঘাত করে। এতে আনুমানিক ৫০০ পাউন্ড বিস্ফোরক জাহাজটির মূল কাঠামো ভেঙে ফেলে এবং ১৫ ফুটের মতো বড় গর্ত তৈরি হয়।
কক্স লিখেছেন, “জাহাজটিকে কার্যত ভাসিয়ে রেখেছিল সেটির প্রধান ডেক।”
ভাঙা ‘সুপারস্ট্রাকচার’ শক্ত ইস্পাত তার দিয়ে বেঁধে স্থিতিশীল রাখা হয়। আর বিস্ফোরণের আগে ক্যাপ্টেন অধিকাংশ নাবিককে ডেকের ওপরে চলে যাওয়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা সীমিত থাকে। ১০ জন আহত হন।
এই হামলার পর আবারও মার্কিন বাহিনীর মাইন অপসারণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সামনে আসে।
এ মাইন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র যে পাল্টা আঘাত হানে, তা মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হয়ে আছে।
একজন নৌ-ইতিহাসবিদের মতে, এটি ছিল তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ।
অপারেশন প্রেয়িং ম্যান্টিস
রবার্টসকে প্রায় দ্বিখণ্ডিত করে ফেলা ইরানি মাইনের জবাবে চার দিন পর ‘অপারেশন প্রেয়িং ম্যান্টিস’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল স্থাপনাগুলো ছিল এ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু।
একটি লক্ষ্যবস্তুতে তিনটি মার্কিন জাহাজ থেকে হামলা চালানো। এরমধ্যে একটি ছিল ‘ইউএসএস সিম্পসন’। সংঘর্ষের সময় একটি ইরানি টহল নৌকা মার্কিন জাহাজগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
সিম্পসন পাল্টা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরানি নৌকাটিকে অচল করে দেয়। পরে মার্কিন বহরের গোলাবর্ষণে সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম মুখোমুখি ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ।
সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘এ-৬’ যুদ্ধবিমান এবং একটি ডেস্ট্রয়ারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি ইরানি ফ্রিগেট ডুবে যায়।
এ অভিযানকে মার্কিন নৌ-ইতিহাসের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের একটি হিসেবে দেখেন নৌ-ইতিহাসবিদ ক্রেইগ সাইমন্ডস।
‘ডিসিশন অ্যাট সি’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, এ অভিযানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মিডওয়ে দ্বীপে জাপানি নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক জয়ের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
তেলবাহী ট্যাঙ্কার সুরক্ষার মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন আর্নেস্ট উইল’।
সাইমন্ডস মনে করেন, ‘প্রেয়িং ম্যান্টিস’ বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও পাকাপোক্ত করে।
তার ভাষায়, “ওই যুদ্ধে সবার কাছে বার্তা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন প্রযুক্তি অর্জন করেছে, যা তাকে শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত করেছে।”
‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ সামরিক শক্তি— এ কথা এখন ট্রাম্পের মুখেও মাঝে মাঝে শোনা যায়।
২০২৬: বদলে যাওয়া বাস্তবতা
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট অনেকটাই ভিন্ন।
প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে; ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার বেড়েছে, বিশেষ করে তাদের সাশ্রয়ী ড্রোন সমুদ্রপথে হুমকির পরিধি বাড়িয়েছে।
আরেকটা বিষয় হলো, এবার ইরানকে কিন্তু ইরাকের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে না।
কোনো কোনো বিশ্লেষকের প্রশ্ন, সমুদ্রযুদ্ধে সাফল্য কি যুক্তরাষ্ট্রকে মাইন প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অনীহা করে তুলেছে? কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রযুদ্ধের চেয়ে মাইন সরানোটা ধীর ও সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া।
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার বলেন, “মাইন অপসারণে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা খুবই সীমিত। বাজেট কাটছাঁটে এটি সবার আগে বাদ পড়ে। কারণ ঐতিহ্যগতভাবে আমরা এ বিষয়ে মিত্রদের ওপর নির্ভর করি।”
কারো কারো প্রশ্ন, ইরান যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, সেই প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের ছিল কিনা? আর যুদ্ধের শুরু থেকেই তেলের ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তার কথা কেন ভাবা হয়নি।
ট্যাঙ্কার যুদ্ধের সময় কনভয়ে অংশ নেওয়া সাবেক নাবিক ও সমুদ্রবিষয়ক পরামর্শক ফ্রাঙ্ক কোলস বলেন, “ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে।
“যারা ইরান-ইরাক যুদ্ধের কথা মনে রেখেছেন, তারা জানেন, তখনও এসকর্টের প্রয়োজন পড়েছিল। এখন সেটি পরিকল্পনার বাইরে থাকাটা হতাশাজনক।” সূত্র : বিডি নিউজ