ধ্রুব ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের এই জলপথটি বন্ধ হয়ে আছে। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ আছে।
জাতিসংঘের সমুদ্র বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকে (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত কিন্তু ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য নয়।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘পুরোপুরি খুলে’ না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার ট্রাম্প ওই হুমকি দেওয়ার পর রোববার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি ওই কথা জানিয়েছেন বলে খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানি হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ আছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযোগকারী, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ প্রণালিটি উভয় পাশে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বহু জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের এই জলপথটি বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুসাভি আইএমওকে বলেছেন, ইরান পারস্য উপসাগরে নাবিকদের সুরক্ষায় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার উন্নতিতে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ‘শত্রুদের’ সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন সব জাহাজ তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে।
তিনি বলেন, “কূটনীতিই ইরানের অগ্রাধিকার। তবে আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আরও গুরুত্বপূর্ণ।”
‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ হরমুজ প্রণালির বর্তমান অবস্থার মূল কারণ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ধ্রুব/এস.আই