আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের আকাশ ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি পুলিশের সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর সাইবার-প্রযুক্তি কেন্দ্র ও রাফায়েল অস্ত্র উৎপাদন ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অধিকৃত ইসরায়েলি ভূখণ্ডের একটি অস্ত্র নির্মাণ কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সাইবার-প্রযুক্তি কেন্দ্র ইসরায়েলি বাহিনীকে গাইডেড ওয়েপন সিস্টেমের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার সরবরাহ করেছে। এছাড়া ইরানের জনবহুল কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামও সরবরাহ করছে।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিকে হত্যার দাবি ওঠার পর তার এক্স অ্যাকাউন্টে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বার্তাটি তার নিজের লেখা কি না বা ঠিক কখন লেখা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ) স্থানীয় সময় বিকেলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি হামলায় লারিজানি নিহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই দাবির পরপরই লারিজানির এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে হাতে লেখা একটি নোট সংযুক্ত ছিল। একই বার্তা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও প্রচার করা হয়েছে। এতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করা হয়েছে, যাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বার্তায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নৌবাহিনীর যোদ্ধাদের জানাজা উপলক্ষে: তাদের স্মৃতি ইরানি জাতির হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে এবং এই শাহাদাতবরণ বহু বছর ধরে সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র সেনাবাহিনীর ভিত্তি স্থাপন করবে। আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই প্রিয় শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।’
এর আগে গত শুক্রবার তেহরানে আল-কুদস দিবসের র্যালিতে অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায় লারিজানিকে। ওই সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনাকে তিনি ইরানের শত্রুদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের হামলা ভয় ও হতাশা থেকেই করা হয়। যে শক্তিশালী, সে কখনও মিছিলে বোমা হামলা করে না। এতে স্পষ্ট যে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’
সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘ট্রাম্প বোঝেন না যে ইরানের জনগণ সাহসী, শক্তিশালী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি যত চাপ দেবেন, ইরানি জাতির দৃঢ়তা ততই বাড়বে।’