❒ ৫৫ পাক সেনা ও ১৩৩ তালেবান নিহতের পাল্টাপাল্টি দাবি
ধ্রুব ডেস্ক
কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে ছবি: সংগৃহীত
ডুরাল্ড লাইন তথা আফগান-পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশই একে অপরের ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকার দাবি করেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক হামলায় অর্ধশতাধিক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ও সামরিক মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদি জানান, বুধবার রাত ৮টা থেকে তারা পাকিস্তান সীমান্তের সামরিক চৌকিগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি ও ২টি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রসহ একটি ট্যাংক ও সামরিক যান ধ্বংস করার দাবিও করেছে তারা।
পাল্টা জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০-এর বেশি আহত হয়েছে। অভিযানে তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং ৮০টিরও বেশি ট্যাংক ও এপিসি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তান সরকার দাবি করছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, "আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।" অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব অত্যন্ত শক্তভাবে দেওয়া হবে এবং মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
এদিকে, আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় নানগারহার প্রদেশে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জালালাবাদ এলাকার হাসপাতালগুলোতে আহত আফগান নারীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এই ভয়াবহ সংঘাত নিয়ন্ত্রণে বিশ্বনেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই দেশকেই উত্তেজনা কমিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশ অনুরোধ করলে মস্কো মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পৃথকভাবে সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার জের ধরেই এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় যা বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।