ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে তাণ্ডব চালানোর পর স্থলভাগে প্রবেশ করে এটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে বর্তমানে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে ঝড়ের তাণ্ডবে প্রাণহানি ছাড়াও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি সূত্রে এখন পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৯ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসব মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) এটিকে তাদের শ্রেণিবিন্যাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তর বা 'অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়' হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পরপরই এটি শক্তি হারাতে শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার ভোরে আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি ছত্তীশগড় ও দক্ষিণ ওড়িশার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
ঝড়ের সবচেয়ে বড় আঘাত এসে পড়েছে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যটিতে অন্তত ১৫ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনাদিম ও পশ্চিম গোদাবরি জেলা বাদে ইতিমধ্যেই অধিকাংশ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। বাকি অঞ্চলগুলোতেও দ্রুত বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের আগাম প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সময়মতো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। এর ফলেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো এবং বহু মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা গেছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ২০ জন নাবিকসহ মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা মোকাবেলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অন্ধ্রপ্রদেশের এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেন ও ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়।
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর ইতিহাস দীর্ঘ এবং এটি প্রায়ই ভারত ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে। অর্ণব দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও এর রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন কাটিয়ে উঠতে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন এখন পুনরুদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।