আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেন দুটিতে ৫৪৪ জন যাত্রী ভ্রমণ করছিলেন। দুটি ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াতে যাচ্ছিল। খবর বিবিসি।
দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্পেনের সংবাদমাধ্যমকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে আদামুজে ঘটে যাওয়া রেল দুর্ঘটনার চেয়েও এবারের পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। আদামুজের ওই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
স্প্যানিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার টিভিই জানিয়েছে, দুটি ট্রেন একই লাইনে চলছিল। এরমধ্যে একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স এবং সিভিল গার্ডের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে স্পেনের সামরিক জরুরি সেবার প্রায় ১০০ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশটির সামরিক জরুরি ইউনিট জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে অনুসন্ধান ও উদ্ধার সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন থেকে মানুষকে বের করে আনার যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেয়ার দলও কাজ করছে।
হতাহতদের উদ্ধারে যোগ দিয়েছে একাধিক হেলিকপ্টারও। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে একাধিক হেলিকপ্টারের তৎপরতা দেখা গেছে। এর মধ্যে অ্যাভিনসিস পরিচালিত তিনটি হেলিকপ্টার ওই এলাকায় শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যায়। প্রতিষ্ঠানটি আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিশেষায়িত। এর একটি হেলিকপ্টার পরে স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে আবার দুর্ঘটনাস্থলের কাছে যায়। স্পেনের সিভিল গার্ড পরিচালিত আরেকটি হেলিকপ্টারকেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় যেতে দেখা যায়। পরে সেটি ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর আবার সেটিকে মাদ্রিদের দিকে যেতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের যাত্রীদের ছিটকে বাইরে পড়ে যেতে দেখেছেন বেঁচে ফেরা জেসুস জেরোনিমো। তিনি বলেন, প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে আমরা বাইরে বের হই এবং দেখতে পাই আমাদের বগি একপাশে কাত হয়ে গেছে। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন। অনেকে ভয়ে কাঁপছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থলে থাকা ইউরোপবিষয়ক প্রযোজক সিমোনে বাগলিভো জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর উর্দা শহরটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, শহরটিকে এখন ‘ভূতুড়ে নগরীর মতো’ দেখাচ্ছে। সেখানে বিরামহীনভাবে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। ঘটনাস্থলে অন্তত তিনটি হেলিকপ্টার দেখা গেছে। পাশাপাশি সেখানে বিপুলসংখ্যক অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেন তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়দের সহায়তা দিতে চারটি কার্যালয় চালু করেছে স্পেনের সিভিল গার্ড ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কার্যালয়গুলো মাদ্রিদ, আন্দালুসিয়া, কর্দোবা ও তোলেদোতে স্থাপন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে তাদের নিকটাত্মীয়েরা ডিএনএ নমুনা দিতে পারবেন।
উদ্ধার কাজ তদারকিতে ঘটনাস্থল উর্দায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সরকার জানায়, সানচেজ জরুরি উদ্ধারকর্মীদের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পাশে থাকবেন। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন প্রশাসনের মধ্যে সর্বোচ্চ সমন্বয় বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।