ধ্রুব ডেস্ক
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বেশকিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদী হাসানের মতো আরও অনেক বাংলাদেশির গল্প এখন সামনে আসছে। যারা কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন, শেষে গিয়ে দেখেন ভয়ংকর এক যুদ্ধের মধ্যে পড়ে গেছেন তারা। কেউ কেউ হয়তো যুদ্ধ করার কথাও ভাবেননি, আবার অনেকে নিজের ইচ্ছেতেই যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বুঝেছেন যুদ্ধ আসলে কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
রাশিয়ায় গিয়ে ফেসবুকে যুদ্ধের ভিডিও বানানোর কোনও পরিকল্পনাই ছিল না মেহেদী হাসানের। কাজের ভিসা নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। অথচ এটিই এখন তার রোজকার কাজ। কাঁপা কাঁপা হাতে যুদ্ধের খাদের ভেতর বা ক্যাম্প থেকে বানানো কিছু ভিডিও, সঙ্গে যুদ্ধকে 'বীরত্বপূর্ণ' বলে ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে মানানসই গান আর ক্যাপশন—এভাবেই গড়ে উঠেছে তার সোশ্যাল মিডিয়া পরিচিতি। ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা এখন ১ লাখ ১৭ হাজারেরও বেশি।
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বেশকিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদী হাসানের মতো আরও অনেক বাংলাদেশির গল্প এখন সামনে আসছে। যারা কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন, শেষে গিয়ে দেখেন ভয়ংকর এক যুদ্ধের মধ্যে পড়ে গেছেন তারা। কেউ কেউ হয়তো যুদ্ধ করার কথাও ভাবেননি, আবার অনেকে নিজের ইচ্ছেতেই যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বুঝেছেন যুদ্ধ আসলে কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
ফেসবুকে এই ধরনের ভিডিও না দেখলে বিশ্বাসই করা কঠিন। ক্যাম্প থেকে নিজেদের রোজকার জীবনের ভিডিও বানাচ্ছেন তারা। প্রশিক্ষণের ভিডিও, খাবারের ছবি, এমনকি যুদ্ধের সরঞ্জামের ফুটেজও আপলোড করছেন। আবার এমন ভিডিও আছে যেখানে আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহ আসল চেহারা দেখা যায়: ড্রোন হামলা, গুলির শব্দ আর বিস্ফোরণের পরের মন খারাপ করা করুণ সব দৃশ্য।
মেহেদী হাসানের ভিডিওগুলো খুব দ্রুতই ভাইরাল হয়ে গেছে, সেগুলো দেখা হয়েছে কয়েক কোটিবার। ভিডিওগুলো দেখে মানুষ মুগ্ধ হচ্ছেন, তাদের সাহসের প্রশংসা করছেন, আবার অন্যদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতার জন্য নিন্দাও করছেন; তবুও সবার মধ্যে এ বিষয়ে এক অদ্ভুত কৌতূহলও কাজ করছে।
প্রায় এক বছর আগে রাজশাহী থেকে বন্ধু ইয়াসিনকে নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমান মেহেদী। সেখানে পৌঁছে দুজনেই যোগ দেন রুশ সামরিক বাহিনীতে। গত ১৬ ডিসেম্বরের একটা ভিডিওতে দেখা যায়, দুই তরুণ তাদের লম্বা আর কঠিন পথের কথা বলছেন। তারা 'সফলতার' কতটা কাছাকাছি, সেটাও জানাচ্ছিলেন। তবে সেই ভিডিওর ক্যাপশনে পরে যোগ করা হয়, 'ইয়াসিন আর নেই'।
মেহেদীর ফেসবুক পোস্টগুলো থেকে জানা যায়, গত মার্চ মাসে যুদ্ধের একদম সামনের সারিতে মিসাইলের হামলায় ইয়াসিনের মৃত্যু হয়েছে। ইয়াসিনের শেষ পাবলিক আপডেটে তিনি মেহেদীর জন্য দোয়া চেয়েছিলেন, মেহেদী নিজেও মাইনের বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন।
মেহেদী তার বেশ কিছু পোস্ট আর মন্তব্যে নিজেই বলেছেন যে তিনি আহত হয়েছিলেন। পরে তিনি সামনের সারি থেকে ফিরে আসেন এবং তার ফেসবুক পেজ চালানো চালিয়ে যান। এখন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ধারণ করা পুরনো ভিডিওগুলো আবার নতুন করে সাজিয়ে পোস্ট করছেন।
ভিডিওগুলো আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টের মতো করেই বানানো: ছোট ছোট ক্লিপ, যিনি পোস্ট করছেন তার মনের ভাব বোঝাতে পেছনে মানানসই গান, আর তাদের সাহস, বন্ধুত্ব বা সেখানে আসার উদ্দেশ্যকে তুলে ধরা একটি ক্যাপশন। কিছু ভিডিওতে দেখা যায় বাঙ্কারের ভেতরে সেনাদের হাসাহাসি কিংবা সেনাদের খাদের পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটির দৃশ্য; নাহয় ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম, ধ্বংসস্তূপ অথবা ফিল্ড হাসপাতালের কঠিন বাস্তবতা।
মেহেদী হাসানের ফেসবুক পোস্টগুলো দেখলে মনে হবে যেন সেখানে যুক্তিতর্কের এক বড় আসর বসেছে। তিনি সেখানে গিয়ে টাকা কামানোর কথা বলছেন, তিনি কতটা 'ভাগ্যবান', বন্ধুত্বই কীভাবে যুদ্ধের ময়দানে তাকে টিকিয়ে রেখেছে—এসব নিয়েই ভিডিও বানাচ্ছেন, এবং তা দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় দ্বিধাবিভক্ত জনমত।
একদিকে অনেকে মেহেদীর ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে জানতে চান, কীভাবে তারাও একই পথে যেতে পারেন। অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে বোকামি ছাড়া আর কিছু মানতে নারাজ; হঠকারিতার মোড়কে লুকিয়ে থাকা হতাশার গল্প ছাড়া আর কিছুই নয় এটি তাদের চোখে। তাদের মতে, এই তরুণেরা দেশের জন্য নয়, বরং প্রতিশ্রুত উচ্চ বেতনের আশায় জীবন বাজি রাখছেন; আসলে তো এটি জীবনকে তুচ্ছ করার একটা চুক্তি!
তার পোস্টের কমেন্ট সেকশনেও সেই দ্বিধাবিভক্ততা দেখা যায়। মাঝেমধ্যে তর্ক করতে করতে আলোচনাগুলো তুচ্ছ পর্যায়েও নেমে আসে।
তবে এই অনলাইন তর্কের আড়ালে বাস্তবতার চিত্র আরও জটিল। যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পরও, এই তরুণদের কেউ কেউ যেন তাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে 'ক্যাশ' করছেন, সেখান থেকে আর্থিক লাভ তুলছেন। ভিডিও ক্লিপগুলো মানুষের নজর কাড়ে, আর নিয়ে আসে স্পনসরশিপ, সাথে অর্থপ্রদত্ত অনুসন্ধান বা নতুন ফলোয়ারও বাড়ে।
তবে যেসব ভ্লগার এই ধরণের ভিডিও বানান, এমনকি তাদের নিজেদের মধ্যেও নিজস্ব বিরোধ। প্রায় ডজনখানেক বাংলাদেশি নিয়মিতভাবে তাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা পোস্ট করে থাকেন। প্রায়ই তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অতিরঞ্জিত বা ভুল তথ্য উপস্থাপন কিংবা বিপদের গুরুত্ব কম করে দেখানোর অভিযোগ তোলেন। একজন বলেন আরেকজন নাকি 'ঠিকমতো যুদ্ধে যোগ দেননি', অথবা 'পুরোটা সময় পেছনের সারিতে ছিলেন'। যেন যুদ্ধের এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে কে কোন পদে ছিল, সেটাই সাহসের আসল প্রমাণ!
যুদ্ধফেরত ভ্লগারদের এই জগতে আরেক পরিচিত নাম মো. সোহেল। তিনি তো প্রকাশ্যেই মেহেদীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। সোহেলের সরাসরি অভিযোগ—'মেহেদী মাত্র ১০ দিন যুদ্ধ করেছে…সে যে রাশিয়ান পাসপোর্ট সে দেখায়, সেটাও তার নিজের নয়।' পাল্টা জবাবে মেহেদীরও দাবি, সোহেল বেঁচে গেছেন শুধু এ কারণে যে তিনি তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, অর্থাৎ 'তৃতীয় অবস্থানে' যুদ্ধ করতেন, সামনের সারিতে নয়।
মেহেদী, সোহেল এবং আরও অনেকের এ ধরণের গল্প যখন ইন্টারনেটে বেশ জনপ্রিয়, তখন এমন কিছু ঘটনাও আছে যা মানুষের নজরের বাইরে থেকে যায়। যেমন, ২৮ বছর বয়সী এমবিএ শিক্ষার্থী অর্ণব। মেহেদী বা সোহেলের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতি নেই; বরং তিনি এখন রাশিয়ার কোনো এক কারাগারে বন্দি। তার পরিবারও ঠিকঠাকভাবে জানে না, তিনি ঠিক কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন।
২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর অর্ণবের মা রাশিয়ায় থাকা তার বন্ধুদের কাছ থেকে একটি ফোন পান। তারা জানান, অর্ণব রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছেন এবং কিছু লোক তাকে ডরমিটরি থেকে নিয়ে গেছে। প্রথমে খবরটা তার বিশ্বাসই হয়নি। যে ছেলে পড়াশোনার জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিল, এমবিএর শেষ সেমিস্টারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সে কেন এমন একটি চুক্তির কারণে সেনাদের জিম্মায় থাকবে, যে চুক্তি তার কখনও করার কথাও ছিল না?
২০২৩ সালে স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন অর্ণব। সেখানে পার্ট-টাইম কাজ করেই তিনি নিজের টিউশন ফি জোগাড় করতেন। এমবিএ শেষ করতে আর মাত্র কিছু মাস বাকি; তার আগেই যে তার জীবন এমন অনিশ্চিত মোড় নেবে, তা ভাবারও উপায় ছিল না।
অর্ণবের বোন অনন্যা পরে ঘটনাগুলো জোড়া লাগিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন, এর মানে কী হতে পারে। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে অর্ণব চাকরি হারিয়েছিলেন, আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। হয়তো সেই চাপ থেকেই, অথবা দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে, তিনি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অনন্যা বলেন, 'আমি শুনেছি, তাকে মাসে রাশিয়ান মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আর পুরো এক বছর যুদ্ধ করলে পাওয়া যেত প্রায় ১ কোটি টাকা। এমনকি তাকে রাশিয়ান নাগরিকত্ব দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।'
অর্ণবের বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে অনন্যা জানান, রাশিয়ায় যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ডাক শুধু রাশিয়ানদের জন্য ছিল না, সবার জন্যই খোলা ছিল। এমনকি, যারা ট্রেনিংয়ে ভালো করত এবং যুদ্ধের সামনের সারির জন্য 'উপযুক্ত' বিবেচিত হতো, তাদের নাকি বাড়তি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
'ট্রেনিং শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই আমরা খবর পেলাম যে সে চুক্তি ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেছে। এরপরই তাকে জেলে নেওয়া হয়। তারপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগই করতে পারিনি আমরা। সামনে ১৮ ডিসেম্বরে একটা শুনানির কথা আছে। হয়তো সেদিনই জানতে পারব সে ঠিক কী করেছে,তার কী অপরাধ ছিল। ততদিন পর্যন্ত আমাদের শুধু অপেক্ষা করতে হবে,' হতাশ হয়ে বলেন অনন্যা।
অর্ণবের মতো অনেকে হয়তো নিজের ইচ্ছায় যুদ্ধে গেছেন, কিন্তু এমন অনেক সৈনিকও আছেন যারা মোটেও স্বেচ্ছায় যাননি। বরং ভালো চাকরি বা পড়াশোনার লোভ দেখিয়ে তাদের মিথ্যা বলে পাচার করে যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের কেউ কেউ আসল পরিস্থিতি দেখে পালিয়েছেন, বাঁচার জন্য সবার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। কেউ গুলির আঘাতে বা বোমার বিস্ফোরণে মারা গেছেন, কেউ এখনো যুদ্ধ করছেন, আবার অনেকের কোনো খোঁজই পাওয়া যাচ্ছে না। যুদ্ধের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এসব জীবনের গল্প এখনো ওপরিতলের আলোচনায় খুব কমই আসে।
কাজের বা পড়াশোনার ভিসায় রাশিয়া গিয়ে রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ঘটনায় আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। বিদেশিদের সরাসরি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেয় এমন কোনো ভিসার নিয়ম নেই। তাই যারা দেশ ছেড়েছেন, তাদের একটা নির্দিষ্ট কারণে রাশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। এই অবস্থায় বাংলাদেশের শ্রম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার দূতাবাসের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সাধারণত বিদেশে চাকরি করতে ইচ্ছুক যে কোনো অভিবাসী কর্মীকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়। তবে রাশিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়া বিষয়ে জানতে চাইলে, বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হাই স্পষ্ট করে বলেন, 'রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিদের অংশ নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো রিপোর্ট নেই। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।'
তিনি আরও বলেন, 'যারা ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের সবাইকে আমাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমরা তাদের, তাদের কর্মস্থল আর যে এজেন্সি তাদের নিয়ে যাচ্ছে, সব খুঁটিয়ে দেখি। যদি আমরা এমন কোনো খবর পাই এবং কাউকে দোষী মনে করি, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত এমন কিছু পাইনি। আপনারা যদি আমাকে বিস্তারিত তথ্য আর পাসপোর্ট নম্বর দিতে পারেন, তাহলে হয়তো আমরা সেই লোকেদের খোঁজ নিতে পারব।'
এরপর উত্তর খোঁজা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। জন কূটনৈতিক উইং থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এলেও তাতে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম প্রশ্নমালা চেয়ে নিয়ে জানান, 'মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইং থেকে সাড়া পেলে আমি জানাব।' এরপর মন্ত্রণালয় থেকে আর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি যেহেতু রাশিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাই ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। প্রেস অ্যাটাশে সোফিয়া কুটেপোভা বলেন তিনি কনসুলার বিভাগের সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিদেশিরা রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের লিখিত উত্তরে দূতাবাস জানায়, 'বাংলাদেশের রাশিয়ান দূতাবাসের বিদেশি নাগরিকদের সামরিক সেবার জন্য নিয়োগ করার কোনো ক্ষমতা নেই।' এর মানে দাঁড়ায়, বাংলাদেশিরা যদি যোগ দিয়ে থাকে, তা হয়তো অবৈধ উপায়েই হয়েছে।
রাশিয়ান দূতাবাস আরও জানায়, প্রতিটি কর্মসংস্থান ভিসা একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির জন্যই জারি করা হয়। রাশিয়ায় যাওয়ার আগে বাংলাদেশিদের একটা কাগজে সই করতে হয়, যেখানে লেখা থাকে যে তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবে না। এমনকি, চাকরিদাতার অনুমতি ছাড়া আর মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসকে না জানিয়ে তারা তাদের কাজের জায়গাও বদলাতে পারবে না।
যদি কোনো বিদেশি কর্মী অন্য কোনো রাশিয়ান কোম্পানিতে কাজ করতে চান, তাহলে তাকে বাংলাদেশে ফিরে এসে নতুন আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আবার কর্মসংস্থান ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এই নিয়মকানুন মূলত বাংলাদেশি কর্মী, নিয়োগকারী এবং রিক্রুটিং কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে দূতাবাস স্বীকার করেছে, দুর্ভাগ্যবশত, রাশিয়ায় কর্মরত কিছু বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় চলে যান। রাশিয়ান দূতাবাসের কাছে এমন কোনো স্কিম বা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য নেই।
এই জটিল পরিস্থিতিতে, যারা লোভের ফাঁদে পড়ে বা ভুল বুঝে যুদ্ধের ময়দানে যাচ্ছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা বা এর দায়ভার ও জবাবদিহিটা কার, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।