সাইফুল ইসলাম
যশোর পৌর পার্কে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের বন্ধুদের দ্বিতীয় মিলনমেলা ছবি: ধ্রুব নিউজ
সবুজ ঘেরা যশোর পৌর পার্কে আজ স্মৃতির জোয়ার নেমেছিল। চব্বিশ বছর আগের সেই স্কুল ড্রেসের দিনগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ফিরে এসেছিল আড্ডায়। সময়ের পরিক্রমায় কেউ আজ সফল উদ্যোক্তা, কেউ কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব, কেউ বা প্রবাসে ব্যস্ত। কিন্তু আজকের সকাল সব পরিচয়কে ছাপিয়ে শুধুই ‘বন্ধু’ পরিচয়ে এক করেছিল কয়েকশ প্রাণকে। ১৭ এপ্রিল যশোর পৌর পার্কে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের বন্ধুদের দ্বিতীয় মিলনমেলা।
এবারের এই মাহেন্দ্রক্ষণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৯৯৯ ব্যাচের প্রায় ৩৪৩ জন বন্ধু অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের দেখা না হওয়া বন্ধুদের আলিঙ্গন আর কৈশোরের ‘তুই তুকার’ সম্বোধন যেন প্রমাণ করে দিল—বন্ধুত্বের কোনো মেয়াদ শেষ হয় না। এত বিশাল সংখ্যক বন্ধুকে এক সুতোয় গাঁথার কারিগর হিসেবে নিরলস কাজ করেছেন মো. পিকুল, রাসেল ওয়াসী, ইমদাদুল সাওন, পাবেল পারভেজ, নাদিম হায়দার, রনি ও বর্ষা। তাদের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা আর আন্তরিক প্রচেষ্টায় সারাদেশের বন্ধুদের এই মিলনমেলা।
সকাল থেকেই বন্ধুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পৌর পার্ক প্রাঙ্গণ। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রাণখোলা স্মৃতিচারণ, আড্ডা ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গান, কবিতা এবং বিশেষ পারদর্মিতা উপস্থিত সবাইকে নস্টালজিক করে তোলে। দুপুরের প্রীতিভোজ শেষে চলে একে অপরের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
আয়োজকরা জানান, কর্মব্যস্ত জীবনের যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে শৈশবের বন্ধুদের সাথে কিছু অমূল্য সময় কাটানোই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন , আগামীতে এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে এই ব্যাচের বন্ধুদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এ ধরণের আয়োজন প্রতি বছর অব্যাহত থাকবে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বিদায়ের সুর বাজলেও, বন্ধুদের চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি আর আগামীতে আবারও দেখা হওয়ার একরাশ প্রত্যাশা।