রমজান আলী
প্রেমের ট্রাকে এক রোমান্টিক সংসার পেতেছেন এই জুুটি ছবি: ধ্রুব নিউজ
চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভারতীয় এক দম্পতি। সাধারণ দম্পতিদের সংসার হয় ছাদের নিচে, কিন্তু এই ভারতীয় দম্পতির সংসার চলে ১৮ চাকার ওপর! প্রেমের টানে তারা কেবল ঘরই বাঁধেননি, আস্ত একটা ট্রাককেই বানিয়ে নিয়েছেন নিজেদের ছোটখাটো এক পৃথিবী। ঝাড়খণ্ডের ধুলোবালি ওড়ানো পথ মাড়িয়ে, হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ভালোবাসার সেই 'চলন্ত বাসর' নিয়ে তারা এখন বেনাপোল স্থলবন্দরে।
গল্পটা কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, বরং রক্ত-মাংসের সংগ্রামের। ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বাসিন্দা এই দম্পতি আগে থেকেই একটি পরিবহন সংস্থায় কাজ করতেন। ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর ইঞ্জিনের শব্দের মাঝেই বিনিময় হতো চোখের ভাষা। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর তারপর মন দেওয়া-নেওয়া। সম্প্রতি পরিবারের আর্শীবাদ নিয়ে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন তারা। কিন্তু বিয়ের পর তো আর স্ত্রীকে ঘরে বসিয়ে রাখা যায় না—তাই স্বামী ধরলেন স্টিয়ারিং, আর স্ত্রী নিলেন হেল্পারের ঝাণ্ডা।
দীর্ঘ পথের ক্লান্তি মেটাতে এই দম্পতির দাওয়াই হলো একে অপরের সঙ্গ। স্বামী যখন একমনে ট্রাক চালান, স্ত্রী তখন পাশের সিটে বসে শুধু পথই দেখান না, সামলান যান্ত্রিক আর দাপ্তরিক সব ঝক্কি। দীর্ঘ যাত্রায় স্বামী ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্ত্রী নিজ হাতে চা বানিয়ে দেন, ঠিক যেমনটি হয় ড্রয়িংরুমে বসে আড্ডার সময়। ট্রাকেই চলে তাদের ছোটখাটো সংসার, টুকটাক রান্নাবান্না আর খুনসুটি। তাদের ভাষায়: ‘রাস্তার ধারের ধুলোবালি আর ইঞ্জিনের গরমেও আমাদের ক্লান্তি লাগে না, কারণ আমরা যে একসঙ্গেই আছি!’
পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ে এই দম্পতি আজ যখন বেনাপোল বন্দরে পৌঁছান, তখন তাদের দেখতে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। যে বন্দরে কেবল কঠোর পরিশ্রমী পুরুষদের দাপট দেখা যায়, সেখানে স্বামী-স্ত্রীর এই মিষ্টি রসায়ন দেখে শ্রমিক আর কর্মকর্তাদের মুখেও ফোটে হাসির রেখা। স্থানীয় চালকদের কথায়—আগে কখনও এমন সাহসী আর রোমান্টিক জুটি তারা বন্দরে দেখেননি।
ভালোবাসা যে কেবল কাব্য বা পর্দার গল্প নয়, বাস্তব জীবনেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার নাম—বেনাপোলে আসা এই ভারতীয় দম্পতি যেন তারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। জীবনযুদ্ধের এই পিচ্ছিল পথে তারা প্রমাণ করেছেন, বিশ্বাস আর ভালোবাসা থাকলে যেকোনো কঠিন যাত্রাও হয়ে ওঠে আনন্দময়।