তাপদাহে পুড়ছে দেশ। তীব্র গরমে জনজীবনে হাঁসফাস অবস্থা। দেশে গতকাল বুধবার ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। চলতি বছর এত জেলায় এক দিনে এমন তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সাধারণত মে মাসের শেষ দিনেই দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে, কিন্তু এবার এর দেখা নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছিল, চলতি মাসে গরম অপেক্ষাকৃত বেশি থাকবে। এখন গরমে পুড়ছে দেশ। চলমান এই তাপপ্রবাহ আরও তিনদিন অর্থাৎ আগামী রোববার পর্যন্ত থাকতে পারে। এসময়ে তীব্র গরমও অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী রোববার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে তা ক্রমে বাড়তে পারে। তবে আগামী তিনদিনে দেশের কোথাও বৃষ্টি হলে সেখানে তাপমাত্রা কমে গরমও কিছুটা কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ৮ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে দেশে মৌসুমি বায়ু (বর্ষাকাল) সেট হবে। তখন দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টি হতে থাকলে গরমও কমে যেতে পারে। এর আগে মোটামুটি ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করতে পারে।
দেশে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে এপ্রিল মাসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মে মাসে। কিন্তু চলতি বছর এই দুই মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জুন মাসে যখন মৌসুমি বায়ু চলে আসার সময়, তখন এর দেখা নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, এখন যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে মৌসুমি বায়ু প্রবেশে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এবার বেশ দেরি হচ্ছে এ বায়ু প্রবেশে। বায়ু প্রবেশের আরও তিন থেকে চার দিন পর দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
তবে আগামীকাল থেকে তাপপ্রবাহের পরিধি কমে আসতে পারে বলে জানান মো. বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, তাপপ্রবাহ কমে গেলেও গরমের অনুভূতি কমবে না।
গত বছর ২৫ মে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। সাধারণত ৩১ মে এ বায়ু প্রবেশ করে। তাতে প্রথম দিকে বৃষ্টিও হয়। কিন্তু এবার দেরিতে এ বায়ুর প্রবেশের অর্থ হলো, বৃষ্টি হতে দেরি হবে—এমনটাই বলেন বজলুর রশীদ।