বিশেষ প্রতিবেদক
গৃহযুদ্ধে লিপ্ত উগান্ডার শিম্পাঞ্জিদের দুদল ছবি: রয়টার্স
মানুষের ইতিহাসের পাতায় সাম্রাজ্য বিস্তার আর ক্ষমতার লড়াইয়ের গল্প আমরা অনেক পড়েছি। কিন্তু উগান্ডার গহীন অরণ্যে এখন যা চলছে, তা কোনো অংশেই মানুষের গৃহযুদ্ধের চেয়ে কম নয়। পশ্চিম উগান্ডার কিবালে জাতীয় উদ্যানে ‘নোগোগো’ শিম্পাঞ্জি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ সংঘাত। এলাকা দখলের এই লড়াইয়ে প্রাণ হারাচ্ছে একের পর এক শিম্পাঞ্জি, যা দেখে খোদ বিজ্ঞানীরাও স্তম্ভিত।
১৯৯৫ সাল থেকে বিজ্ঞানীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই নোগোগো শিম্পাঞ্জিরা একসময় ছিল বন্য পরিবেশের অন্যতম বৃহত্তম ও শক্তিশালী দল। সদস্য সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেলে দলটি তার নিজের বিশালত্বের কারণেই সংকটে পড়ে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমাটোলজিস্ট জন মিতানি জানান, দলটি এতটাই বড় হয়ে গিয়েছিল যে সদস্যরা আর এক ছাদের নিচে (বা এক গাছের নিচে) থাকতে পারছিল না।
প্রায় এক দশক আগে একসময়ের বন্ধুভাবাপন্ন এই বিশাল গোষ্ঠীটি মূলত দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলে বিভক্ত হয়ে যায়। একসময় যারা একসঙ্গে শিকার করত বা একে অপরের শরীর পরিষ্কার করে দিত, আজ তারাই একে অপরের রক্ত পিয়াসী।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ২০১৮ সাল থেকে এই লড়াই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। নোগোগো শিম্পাঞ্জিদের ‘পশ্চিম’ এবং ‘মধ্য’ দলের মধ্যেকার এই লড়াই এখন রীতিমতো নিশ্চিহ্ন করার যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পশ্চিমা দল মধ্য দলের অন্তত ৭টি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং ১৭টি শাবককে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
একই সময়ে মধ্য দলের ১৪টি শিম্পাঞ্জি নিখোঁজ হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সুস্থ অবস্থায় নিখোঁজ হওয়া এই শিম্পাঞ্জিরা প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছে।
শিম্পাঞ্জিদের এই বিবর্তন এবং আচরণের পরিবর্তন যখন গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, ঠিক তখনই ঘনিয়ে আসছে কালো মেঘ। প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটে ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’-এর তহবিল ব্যাপক হারে কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদি এই অর্থ বরাদ্দ কমে যায়, তবে দীর্ঘ তিন দশকের এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্রটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, গবেষণা বন্ধ হয়ে গেলে আমরা হয়তো কখনোই জানতে পারব না—কেন দীর্ঘদিনের বন্ধুরা এভাবে একে অপরের খুনি হয়ে উঠল।
প্রকৃতির এই আদিম লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, টিকে থাকার লড়াই কতটা নির্মম হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, উগান্ডার এই ‘গৃহযুদ্ধ’ কি শেষ পর্যন্ত একটি দলের সম্পূর্ণ বিলুপ্তিতে গিয়ে থামবে? উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।
রয়টার্স, সংগৃহীত এবং এআই সহায়তায় প্রণীত।