Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পৌরপার্কে সাগু গাছে বিরল ফুল: মুগ্ধ দর্শনার্থী, তুঙ্গে কৌতূহল

সাইফুল ইসলাম সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল,২০২৬, ১২:১০ পিএম
পৌরপার্কে সাগু গাছে বিরল ফুল: মুগ্ধ দর্শনার্থী, তুঙ্গে কৌতূহল

পৌরপার্কের গাছে শোভা ছড়াচ্ছে সাগু ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোর শহরের ফুসফুস পৌরপার্ক। প্রতিদিন ভোরে শরীরচর্চা থেকে শুরু করে বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় আড্ডা— সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর থাকে এই প্রাঙ্গণ। তবে গত কয়েকদিন ধরে পার্কে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে বিশেষ একটি জায়গায়। দীর্ঘ বছর আগে লাগানো কয়েকটি সাগু গাছে ফুটেছে নজরকাড়া ফুল, ধরেছে ফল। বিরল এই দৃশ্য পার্কে আগতদের মনে যেমন প্রশান্তি দিচ্ছে, তেমনি অনেকের মাঝে তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতূহল।

পার্কের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পাম জাতীয় এই গাছগুলো দীর্ঘদিন কেবল শোভা বর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবেই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই গাছগুলোর মাথায় বিশালাকৃতির সাদাটে ফুল ও গোল গোল ফলের থোকা দেখা দেয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। অনেক দর্শনার্থীকেই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বিস্ময় নিয়ে তা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।

পার্কে নিয়মিত হাঁটতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, অনেক বছর ধরে তারা এই গাছগুলো দেখছেন, কিন্তু এর আগে কখনো এমন ফুল বা ফল তাদের চোখে পড়েনি। গাছটির গঠন এবং পাতার বিন্যাস অনেকটা খোরমা খেজুর বা নারিকেল গাছের মতো হলেও, এর ফুল আসার ধরনটি একেবারেই ভিন্ন। যারা এই গাছটি চেনেন না, তারা একে অন্যকে জিজ্ঞেস করছেন— এটি আসলে কী গাছ? এটি কি খাওয়ার যোগ্য কোনো ফল? এমন নানা প্রশ্নে মুখর হয়ে উঠেছে পার্কের পরিবেশ।

উদ্ভিদবিদদের মতে, সাগু গাছ বা ‘সাইকাস’ জাতীয় এই উদ্ভিদটি অত্যন্ত ধীরগতিতে বৃদ্ধি পায়। এর ফুল আসা এবং ফল ধরা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। বিরল এই দৃশ্য কেবল নান্দনিক নয়, উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দিক থেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এমন একটি প্রাকৃতিক পরিবর্তন মানুষের দৃষ্টিকে শীতল করছে।

পার্কে আসা তরুণ দর্শনার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, আমরা আম জাম মেহেগনি এই সব গাছ দেখে অভ্যস্ত। অনেক জায়গাতে এই গাছটি দেখেছি কিন্তু এই সাগু গাছের ফুল দেলাম প্রথম। এগুলো দেখতে বেশ চমৎকার। প্রথম দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। অনেকে মোবাইলে ছবি তুলছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন।

দীর্ঘদিন পর যশোরের এই ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠা সাগু গাছের ফুল-ফল পৌরপার্কের প্রাকৃতিক রূপকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। যারা প্রতিদিনের যান্ত্রিক ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে পার্কে আসেন, তাদের কাছে এই দৃশ্য এখন বাড়তি পাওনা।

তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, আমরা বাজার থেকে যে সাদা দানাদার সাগু কিনে খাই, তা কি এই গাছ থেকেই আসে? উত্তর হলো— হ্যাঁ। তবে এই প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ এবং কষ্টসাধ্য। মূলত সাগু গাছের কাণ্ডের ভেতর থেকে এক ধরনের শ্বেতসার বা স্টার্চ সংগ্রহ করা হয়। গাছটি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং ফুল আসার ঠিক আগে বা পরে এর কাণ্ড কেটে ভেতরে থাকা মজ্জা বের করে আনা হয়। সেই মজ্জা পিষে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে নিচে সাদা পাউডারের মতো শ্বেতসার জমা হয়।তাই দিয়ে তৈরি হয় সাগু দানা। তবে

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সাগু গাছের মাধ্যমে সাগু উৎপাদন তেমন একটা হয় না। আমরা সাধারণত যে দানাদার সাগু খাই, তার বড় একটি অংশ আসে কাসাভা বা শিমুল আলু থেকে। কাসাভা থেকে তৈরি স্টার্চ বা শ্বেতসার প্রক্রিয়াজাত করে এই সাগু দানা বানানো হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কাসাভা চাষ হচ্ছে এবং তা থেকে সাগু ও স্টার্চ তৈরি হচ্ছে।

আসল সাগু তৈরি হয় সাগু পাম গাছের কাণ্ডের মজ্জা থেকে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় ব্যাপকভাবে হয়। বাংলাদেশে এই গাছটি মূলত শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবেই পরিচিত, বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে নয়।  দেশের বাজারের সাগুর চাহিদার একটি বড় অংশ এখনো বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ায় যে গাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে সাগু সংগ্রহ করা হয়, সেটি তার জীবনচক্রে মাত্র একবারই ফুল ও ফল দেয়। ফল পাকার পরপরই গাছটি প্রাকৃতিকভাবে মারা যায়। এই ধরনের উদ্ভিদকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় 'মনোকার্পিক' বলা হয়। এ কারণেই বাণিজ্যিকভাবে সাগু সংগ্রহের সময় ফুল আসার ঠিক আগেই গাছটি কেটে ফেলা হয়, কারণ ফুল চলে এলে কাণ্ডের ভেতর জমানো শ্বেতসার বা স্টার্চ ফুরিয়ে যায়।

যশোর পৌরপার্কে বা আমাদের দেশে বাগান ও পার্কে আমরা সাধারণত যে সাগু গাছ দেখি, সেগুলো মূলত সাইকাস প্রজাতির। এই গাছগুলো কিন্তু একবার ফল দিয়েই মারা যায় না। এগুলো বহু বছর বেঁচে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার ফুল ও ফল দিতে পারে।

 

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)