ধ্রুব ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। নতুন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
বাজেট উপস্থাপনের আগে আজ সকালে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রীতি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদের এ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভাতেই জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশেষ এ সভা শেষে আজ বিকেল তিনটায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সুদ পরিশোধের চাপের কারণে আগামী অর্থবছরে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সব মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার এবারের বাজেট প্রণয়ন করেছে। সকালে জাতীয় সংসদে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের বাজেট নিয়ে জাতির প্রত্যাশা অনেক বেশি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। আয়-ব্যয়ের কাঠামোতে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেকের কাছেই এসব লক্ষ্য ‘পরাবাস্তব’ বলে মনে হতে পারে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। অথচ গত তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংক আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।