❒ যশোর সার্কিট হাউজ থেকে আটক ভুয়া সচিব আব্দুস সালাম ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর জেলা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে গত তিন মাস ধরে ভিআইপি প্রটোকল ভোগ করছিলেন তিনি। কখনো রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি), আবার কখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে দাপটের সাথেই ছিলেন সার্কিট হাউসে । সরকারি গাড়ি, পুলিশ প্রটোকল থেকে শুরু করে সব ধরনের রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশাসনের ‘ঘাড়েই চেপে বসেছিলেন’ আব্দুস সালাম নামের এক ধুরন্ধর প্রতারক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বুধবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজ থেকে এই ভুয়া সচিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আটককৃত আব্দুস সালাম মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাঞ্চি গ্রামের মৃত এলাহী বক্স গাজীর ছেলে। জানা গেছে, তিনি আগে একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করতেন।
যেভাবে প্রশাসনের সন্দেহের জালে আটকা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে তিনবার যশোর সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন আব্দুস সালাম। প্রতিবারই তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিআইপি সুবিধা নিতেন। তবে তার কথাবার্তা ও চালচলন নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহের দানা বাঁধে। গোপনে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রশাসন নিশ্চিত হয় যে, সালাম আসলে একজন বহুরূপী প্রতারক।
ফাঁদ ও আটকের নাটকীয়তা মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আব্দুস সালাম জেলা প্রশাসনকে ফোন করে জানান, তিনি যশোর আসছেন এবং রেল স্টেশনে তার জন্য গাড়ি পাঠাতে বলেন। বুধবার সকালে তাকে রিসিভ করতে নিয়মমাফিক রেল স্টেশনে গাড়ি ও পুলিশ প্রটোকল পাঠায় জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের দেওয়া গাড়িতে চড়েই তিনি প্রথমে সদলবলে নিজের গ্রামের বাড়ি মনিরামপুর ঘুরে আসেন। এরপর দুপুরে ফিরে আসেন যশোর সার্কিট হাউজে। আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সালাম সার্কিট হাউজে পৌঁছামাত্রই তাকে জেরা শুরু করেন তারা। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার ভুয়া পরিচয়ের মুখোশ খুলে পড়ে এবং তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হন।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এস এম শাহীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুম বিল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. জাকির হোসেন এবং এনডিসি রেজওয়ান সরদার।
পরে এই প্রতারককে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।