❒ অফিস ড্রয়ারে মিললো ২২ লাখ টাকা
ধ্রুব রিপোর্ট
❒ আটক মেসার্স বঙ্গ ট্রেডার্সের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছবি:
নওয়াপাড়া নদী বন্দর থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সাত ট্রাক সার উধাও হওয়ার ঘটনাটি প্রথম দিকে সাধারণ 'চালকের পলায়ন' মনে হলেও, আকিজ রিসোর্স লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সন্দেহ জন্ম দেয়। সেই সন্দেহকে পুঁজি করেই মাঠে নামে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ তদন্ত এবং গোপন নজরদারির পর অবশেষে সেই সাসপেন্সের যবনিকা পড়ল।
সোমবার, ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক হলো মূল চুরির চক্রের সঙ্গে জড়িত মেসার্স বঙ্গ ট্রেডার্সের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী। আটকের সময় সহকারী ম্যানেজার বাবুল দাসের ব্যক্তিগত টেবিলের ড্রয়ার খুলে চোখ কপালে ওঠে গোয়েন্দাদের — সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি যাওয়া সারের লেনদেনের অংশ হিসেবেই এই বিশাল অঙ্কের টাকা রাখা হয়েছিল।
বিএডিসি'র প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা মূল্যের ৪৮৪০ বস্তা সার পরিবহনের দায়িত্বে ছিল আকিজ রিসোর্স লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বঙ্গ ট্রেডার্স। গত ৯ নভেম্বর নওয়াপাড়া থেকে সার লোড হওয়ার পরও যখন রংপুর, রাজশাহীসহ অন্যান্য জেলার সরকারি গোডাউনে তা পৌঁছায়নি, তখনই শুরু হয় সন্দেহ।
বঙ্গ ট্রেডার্সের কর্মকর্তা বাবুল দাসসহ অন্যরা ই-মেইলে জানায়, চালকরা সার বিক্রি করে পালিয়েছে। কিন্তু এরপর তারা চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুনরায় সার লোড করার অনুমতি চাওয়ায় আকিজ রিসোর্স লিমিটেডের কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে এটি নিছক চালকের পলায়ন নয়—এর পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের লোক।
আকিজ রিসোর্স লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার (স্টোর ইনভেন্টরি) এমরুল কায়েসের করা মামলার পর ডিবি পুলিশের এসআই বাবলা দাস তদন্তভার গ্রহণ করেন। গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েন, আকিজ লজিস্টিকসের সুপারভাইজার সুজন মজুমদার, সহকারী ম্যানেজার বাবুল দাস ও ডেপুটি ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ ।
ডিবি পুলিশ মনে করছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত চুরির ঘটনা, যেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের অবস্থান ব্যবহার করে সারগুলো বাইরে বিক্রি করে দিয়েছেন। আটককৃত তিনজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।