নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক চীনা নাগরিক চাওশিং। ছবি: ধ্রুব নিউজ
হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের ব্যাংক হিসাবের ৭ লাখ টাকা গায়েব, আর তা ক্যাশ করতে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে বানিয়ে ফেলা হলো বলির পাঁঠা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; অভিনব কৌশলে এই বিশাল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূল হোতা চীনা নাগরিক চান শিন ও তার সহযোগী ইমরানকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে যশোরের আরএন রোডের ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
আটককৃতরা হলেন—চীনা নাগরিক চান শিন এবং যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে ইমরান। তাঁরা বর্তমানে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
প্রতারণার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিঠু মজুমদার জানান, যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার আইটি পার্কে কাজ করার সুবাদে ইমরান ও তাঁর সঙ্গীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দোকান থেকে মালামাল কিনতেন। সেই সুসম্পর্কের জের ধরে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) চীনা নাগরিক চান শিনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে আসেন ইমরান। তাঁরা ৪৬ হাজার টাকার পণ্য কেনার পর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে হুট করেই ব্যবসায়ী মিঠুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন।
টাকা জমা হওয়ার পর চক্রটি দাবি করে—পণ্যের ৪৬ হাজার টাকা রেখে বাকি টাকার সমপরিমাণ অর্থের একটি ব্যাংক চেক তাঁদের দিতে হবে। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ও নিজের অ্যাকাউন্টে ৭ লাখ টাকা জমা হওয়ার সতত্য নিশ্চিত হয়ে সরল বিশ্বাসে তাঁদের একটি চেক দিয়ে দেন মিঠু। ওই চেক ব্যবহার করেই ইসলামী ব্যাংক থেকে মুহূর্তের মধ্যে ক্যাশ টাকা তুলে চম্পট দেয় প্রতারক দলটি।
ঘটনার কিছু সময় পর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিঠু মজুমদারকে ডেকে পাঠালে ফাঁস হয় মূল রহস্য। ব্যাংক থেকে জানানো হয়, ঢাকার টঙ্গী শাখার এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেই ৭ লাখ টাকা কৌশলে মিঠুর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ডিজিটাল হ্যাকিং করলেও ক্যাশ টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবসায়ীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চক্রটি। পুরো ডিজিটাল জালিয়াতির দায় এসে পড়ে নিরীহ ব্যবসায়ী মিঠুর কাঁধে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তীতে বুধবার বিকেলে আরএন রোড এলাকার আরেকটি দোকানে ওই চীনা নাগরিক ও ইমরানকে পুনরায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের ধরে নিজ দোকানে নিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন মিঠু।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ইনস্পেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, আটক দুইজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ডিজিটাল হ্যাকিং ও অভিনব এই চেক প্রতারণার পেছনের পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।