নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের সহযোগীতা চাওয়া গোলাপী বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। যশোরের বাঘারপাড়ার গোলাপী ও তার পিতা নুর ইসলাম বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে হামলা করে তাদের কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
গুরুতর আহত গোলাপী বেগম জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণে তিনি গত ১১ দিন মাগুরার সীমাখালির একটি ক্লিানিকে ভর্তি ছিলেন। সোমবার তিনি বাড়ি ফেরেন এবং বিকেলে বাঘারপাড়া থানা পুলিশের ফোন পেয়ে থানায় গিয়ে দেখা করে আসেন।
গভীর রাতে চিৎকার চেচামেচি শুনে গোলাপী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে জেগে তার বাড়িতে একদল লোককে হামলা করতে দেখেন । তখন গোলাপী ও তার পিতা নুর ইসলাম, মা লাল বানু এবং মেয়ে রিনী খাতুন ঘর থেকে বের হন। এসময় হামলাকারী কামরুল, সুমন, টুটুল, আজিজুর, তৌহিদ, সুমন, নাইম, এনামুল তাদের উপর চড়াও হয়। হামলাকারী কামরুল কুপিয়ে জখম করে গোলাপী ও তার পিতা নুর ইসলামকে। এসময় গোলাপীর মা ও মেয়েকেও তারা মারপিট করে। ভাংচুর করে ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র, লুট করে নিয়ে যায় নগদ টাকা, সোনার গহনা, জমির কাগজপত্র ও দোকানের মালামাল।
এ সময় চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। গুরতর আহত গোলাপী ও তার পিতা নুর ইসলামকে প্রথমে বাঘারপাড়া পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপতালে রেফার্ড করা হয়। বাকিরা বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল দোহাকুলা মৌজায় ৭৭৫ দাগের ৫ দশমিক ৫০ শতক জমি শফিকুল ইসলাম ও একই বছর মইনুল ইসলামের কাছ থেকে আরও ৫ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন।
চলতি ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি তার ক্রয়কৃত জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দেয় একই এলাকার মিঠু, লিটন, জিহাদ, তরিকুল, সোহাগসহ আরও অনেকে। এ সময় তারা তার ক্রয়কৃত জমির মধ্যদিয়ে রাস্তা দাবি করে কাজ বন্দ করে দেন। ফের ৭ মার্চ তারা গোলাপীর বাড়িতে হামলা করে তাদের মারপিট করে জখম করে। এ ঘটনা গোলাপী বেগম থানায় একটি অভিযোগ দেন এবং ৯ মার্চ প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে পরিবার ও নিজের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলেন প্রশাসনের কাছে। তাতেও শেষ রক্ষা হলোনা গোলাপী বেগম ও তার পরিবারের সদ্যদের।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত।
ধ্রুব/এস.আই