Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

সুলতানের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন ফাতিমা জিন্নাহ

সংস্কৃতি ডেস্ক সংস্কৃতি ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ আগস্ট,২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
সুলতানের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন ফাতিমা জিন্নাহ

ছবি: সংগৃহীত

শিল্পী এসএম সুলতান জীবনের একটা অংশ কাটিয়েছেন পশ্চিম পাকিস্তানে। সেখানে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন। চারপাশ দেখেছেন। গানের জলসায় গান শুনেছেন। এর মধ্যেই সুলতানের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল শিল্পী সাদেকিনের।

শিল্প গবেষক ইফতিখার দাদি লিখেছেন, ‘সাদেকিন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পী এসএম সুলতানের (১৯২৩-৯৪) সঙ্গেও বন্ধুত্ব করেছিলেন। সুলতান ১৯৫১ সালে করাচিতে এসেছিলেন এবং দুই শিল্পী অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন।’

সেই সময়ে সুলতানকে খুব বেশি মানুষ চিনত না। এর মধ্যেই সাদেকিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। অন্যদিকে সুলতান পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন ফাতিমা জিন্নাহর কাছ থেকে। ১৯৫১ সালে সুলতানের চিত্র প্রদর্শনী হয়েছিল ওয়াইএমসিএতে। সেখানে ফাতিমা জিন্নাহ ভাষণও দেন।

সুলতানের প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণ

‘আজ সন্ধ্যায় এখানে উপস্থিত হয়ে মি. সুলতানের নির্বাচিত চিত্রকর্মের প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শিল্প কেবল শখ কিংবা অবসর কাটানোর বিষয় নয়। অতীত থেকে ভবিষ্যতের প্রতি শিল্পের রয়েছে এক চিরন্তন বার্তা। প্রত্যেক সত্যিকারের শিল্পীর উচিত সেই বার্তা তার জাতি এবং বৃহত্তর অর্থে সমগ্র মানবতার কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা।

একটি জাতির বিকাশে শিল্পের নিজস্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। সংস্কৃতির বিকাশে শিল্পের সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই অতিরঞ্জিত করে দেখা যায় না। ক্যানভাসে কেবল অনুভূতি, আবেগ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যই ফুটিয়ে তোলা হয় না; আমাদের চিন্তা ও আদর্শ প্রকাশেরও একটি মাধ্যম হলো শিল্প।

শিল্প সর্বজনীনভাবে সবচেয়ে মনোরম নীরব ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। আর সেই হিসেবে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার উন্নততর বোধ তৈরি করা এবং তাদের আরো কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও শক্তিশালী উপাদান।

মুসলমানরা শিল্পের এক অসাধারণ ঐতিহ্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। মুসলিম শিল্প তার গৌরবের স্বাক্ষর চিরস্থায়ীভাবে রেখে গেছে। আমাদের ঐতিহাসিক গৌরবের কিছু স্থাপত্যকীর্তির সৌন্দর্য সর্বজনীন প্রশংসা অর্জন করেছে এবং সেগুলোকে শিল্পীসুলভ প্রতিভার বিজয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

স্বাধীনতা ও ক্ষমতা হারানোর ফলে মুসলিম শিল্পের অগ্রগতিতে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সামনে আবারো সুযোগ এসেছে সেই গৌরবময় অতীতকে পুনরুজ্জীবিত এবং আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় সংযোজন করার।

বিভিন্ন কারণে পাকিস্তানে শিল্প এখনো শৈশবাবস্থায় রয়েছে। তবে আমাদের মানুষের মধ্যে যে প্রতিভা রয়েছে এবং শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তারা যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন ও গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তা দেখে আমি আনন্দিত।

আপনারা অন্য দেশের বা অন্য ধারার শিল্পকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন, কিন্তু নিজেদের জাতীয় শিল্পের ঐতিহ্য অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।

আমি আশা করি, আপনাদের প্রতিভাকে উৎসাহিত ও সমন্বিত করার প্রচেষ্টা খুব দ্রুত শিল্পের মানকে উন্নত করবে। পাকিস্তানের নিজস্ব একটি জাতীয় শিল্পকলা গ্যালারি শিগগিরই প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনেও পাকিস্তান একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।

শিল্পের বিকাশে অবদান রাখার আপনাদের এ ব্যক্তিগত উদ্যোগকে আমি অভিনন্দন জানাই। আশা করি, আপনারা যে উৎসাহ ও সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য, তা যথাযথভাবেই পাবেন। ’
 

 

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)