নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ছবি: সংগৃহীত
মহাকবি কালিদাসের দুর্লভ পুঁথি আর প্রাচীন তালপাতায় লেখা পাণ্ডুলিপির ঐতিহ্যে অবগাহন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজকের যশোর সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তিনি পরিদর্শন করবেন বাংলাদেশের প্রথম ও উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন গণপাঠাগার ‘যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি’। কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে এই প্রথম দেশজ ঐতিহ্যের এই জ্ঞানতীর্থে তাঁর আনুষ্ঠানিক পদার্পণ ঘটবে।
১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরির মূল সম্পদ হলো এর প্রায় দুই শতাধিক দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি। প্রধানমন্ত্রী এখানে চাক্ষুষ করবেন তুলট কাগজ ও তালপাতায় হাতে লেখা মহাকবি কালিদাসের পুঁথি। এ ছাড়া সংরক্ষিত রয়েছে প্রাচীন রামায়ণ, মহাভারতসহ শ্রীরঘুরাম কবিরাজ, চাণক্য ও অমর সিংহের কালজয়ী সব সৃষ্টি। নলখাগড়ার কলম আর ভূষা কালিতে লেখা এসব পাণ্ডুলিপি কেবল সংরক্ষিত গ্রন্থ নয়, বরং কয়েকশ বছরের বাঙালি মেধা ও সংস্কৃতির প্রামাণ্য দলিল।
প্রায় পৌনে দুইশ বছরের প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানে এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই প্রথম সেই উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে লাইব্রেরির ধুলোমাখা প্রাচীন আলমারি থেকে বের করে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে বিরল সব গবেষণাগ্রন্থ ও পুঁথি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বারবার আক্রান্ত হয়েছে এই লাইব্রেরি। পুড়ে গেছে অনেক মূল্যবান বই। আজ প্রধানমন্ত্রী যখন এই লাইব্রেরির অলিন্দে পা রাখবেন, তখন তা কেবল একটি সফর হবে না; বরং তা হবে ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধারের এক অনন্য মাইলফলক।
বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে বিশাল জনসভার আগে ঐতিহ্যের এই পীঠস্থানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি যশোরবাসীর হৃদয়ে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।