নিজস্ব প্রতিবেদক
নববর্ষের যশোরে শোভাযাত্রা বের হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
ভোরের সূর্য ওঠার আগেই যশোরের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে বৈশাখী আবাহনে। বর্ণিল আলোকছটা আর প্রাণের স্পন্দনে যশোরবাসী বরণ করে নিয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে। বৈশাখী শোভাযাত্রার রঙ, লোকজ ঐতিহ্যের সমাহারে আজ যশোর যেন এক চির উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়।
সকাল পৌনে ৯টা। টাউন হল ময়দানে তখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একদিকে বাদ্য-বাঁশির সুর। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের নেতৃত্বে যখন বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রাটি শুরু হলো, মনে হচ্ছিল এক বিশাল রঙের মিছিল রাজপথ দখল করে নিয়েছে। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন আর লোকজ ঐতিহ্যের নানা প্রতিকৃতি হাতে কিশোর-কিশোরীদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। জজ কোর্ট মোড় থেকে দড়াটানা, আর থানা চৌরাস্তা থেকে রেল রোড—শহরের প্রতিটি মোড় আজ হয়ে উঠেছিল উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
যশোরের নববর্ষের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর সর্বজনীনতা। মিছিলে যেমন ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন কিংবা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া শিশুটিও। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভেদ ভুলে সবাই আজ এক কাতারে—সবার পরিচয় একটাই, তারা বাঙালি। দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত কিংবা চারুপীঠের মাহাবুব জামাল শামীমদের মতো সংস্কৃতিকর্মীদের সরব উপস্থিতি। যশোর যেন তার ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’র তকমা আজও ধরে রেখেছে।
শোভাযাত্রা শেষে উৎসব ছড়িয়ে পড়ে শহরের আনাচে-কানাচে। পৌর পার্কের বটতলা থেকে শুরু করে এমএম কলেজের সবুজ চত্বর—কোথাও খামতি ছিল না আয়োজনের। নবকিশোলয় স্কুল আর টাউন হল মাঠে তখন চলছে নাচ আর লোকসংগীতের আসর। শুধু কী গান? বাঙালির বৈশাখ মানেই তো রসনা বিলাস। বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয়ে একদিকে যেমন চলেছে মিষ্টিমুখের ধুম, অন্যদিকে পান্তা-ইলিশের সেই চিরচেনা সুবাসে ম ম করছিল চারপাশ।
যশোরে নববর্ষ মানে কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়; এটি এক পশলা শুদ্ধতা। প্রখর রোদেও মানুষের ক্লান্তিহীন হাসি বলে দিচ্ছিল, বাঙালি তার সংস্কৃতিকে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসে। তপ্ত দুপুরের খরতাপ উপেক্ষা করে ছোট-বড় সবার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জানান দেয় সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনই আগামীর সুন্দর বাংলাদেশের শক্তি।