Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ, গ্রেপ্তারের আবেদন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জুলাই,২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৬ জুলাই,২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ, গ্রেপ্তারের আবেদন

আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন ছবি: সংগৃহীত

পিলখানা থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান–বিভিন্ন সময়ে দেশে ‘গণহত্যা, গুম ও খুনের’ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ভার বা ‘সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি’র অভিযোগ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’ নামের দুটি সংগঠন।

বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস রোববার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দুটো দাখিল করেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ শপথ নিয়ে পর পর দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হামিদ।

তারপর আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ পুরো হওয়ার পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই গত শুক্রবার তিনি দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, “আমাদের কাছে যখন কোনো অভিযোগ আসে, আমরা তা গ্রহণ করে রেজিস্ট্রারভুক্ত করি। তারপর তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠাই। তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে এটি তদন্ত করার মত, তখন তারা একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রারভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।”

এই অভিযোগগুলো তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তামীম বলেন, “অভিযোগ থাকলেই হয় না। যার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, শুধু তাকেই আমরা অভিযুক্ত বলতে পারি বা আসামি বলতে পারি।”

বোরহান মাহমুদ বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, জুডিশিয়াল কিলিং এবং আয়নাঘরসহ দেশে সংঘটিত নারকীয় ঘটনাগুলোর সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

“একটি গণহত্যার ঘটনার সময় ওখানে যে রাষ্ট্রের বা যে দলের যে সর্বোচ্চ ব্যক্তি থাকেন, তার ওপরে মূলত এর অপরাধটা বর্তায়। তৎকালীন যে প্রেসিডেন্টরা এই ফ্যাসিস্ট গভার্নমেন্টকে সাপোর্ট দিয়েছেন, সবধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন, যেহেতু তিন বাহিনী তার হাতে ছিল এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাগুলো তার হাতে ছিল, তিনি এই অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেন নাই। তারা কখনো এই অন্যায়ের সাথে এবং এই অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না।”

চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ গ্রহণ করেছেন এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন বোরহান মাহমুদ।

আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, “তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির যুদ্ধ ঘোষণার মত সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকলেও তারা কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ অগাস্ট পর্যন্ত সংঘটিত গুম, খুন ও আয়নাঘরের মত অপরাধে তাদের মৌন সম্মতি ছিল।

সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রপতির কিছু করার সুযোগ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনুর রহমান বলেন, “একটা সুযোগ উনার অন্তত ছিল, উনি পদত্যাগ করতে পারতেন। উনি পদত্যাগ করেন নাই, উনি ক্ষমতা ভোগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট যখন দেখতাছে এত লোক মারা যাচ্ছে, এদের টাকায় উনার বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধা পান, উনি কোনো ভূমিকা রাখবেন না, এটা কোনোভাবে কাম্য না। আমরা তো পরিবর্তন চাই, নজির স্থাপন করতে পারতেন।”

অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমাতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের জন্য ট্রাইব্যুনালে পৃথক আবেদন করেছে ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’।

সংগঠনটির সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, তারা চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দুটি অভিযোগ দিয়েছেন, যেখানে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রসিকিউশন ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা করছেন।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বিচার দাবি করে আয়াস বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নিপীড়নের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি ছাত্র-জনতার ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করেননি এবং প্রকাশ্যে খুন বা গুলি না চালানোর জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোনো নির্দেশও দেননি।”

শেখ হাসিনার ‘সহযোগী’ হিসেবে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে তার ‘সংশ্লিষ্টতা’ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করে বিচারের দাবি জানান তিনি।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)