ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের প্রকাণ্ড হারে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে কঠিন অবস্থায় পড়েছে বাংলাদেশ। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে হলে কেবল আফগানদের হারানোই বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং রান রেটের এক জটিল সমীকরণ মেলানোও বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হলে নেট রান রেট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নেমে যায় -১.৯৮০-এ। বিপরীতে বড় জয়ে সুবিধা পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে, কিন্তু গত ১৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেলে টুর্নামেন্টের হিসাব নতুন মোড় নেয়। জিম্বাবুয়ের রান রেট কমে এখন -০.৫৯০-এ নেমে এসেছে, আর বড় জয় পাওয়া আফগানিস্তান +৩.১৬০ রান রেট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তিন দলেরই দুই পয়েন্টে শেষ করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রান রেটই ফাইনালিস্ট নির্ধারণ করবে।
বাস্তবতা বিচারে ফাইনালে জায়গা করে নিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি জিম্বাবুয়েকে রান রেটে টপকাতে হবে টাইগারদের। কালকের ম্যাচে আফগানিস্তান যদি আগে ব্যাটিং করে ২০০ রান তোলে, তবে বাংলাদেশকে সেই লক্ষ্য টপকাতে হবে ৪০.৩ ওভারের মধ্যে। আফগানদের সংগ্রহ ২৫১ রান হলে ৪১.৩ ওভার, ২৮১ রান হলে ৪২ ওভার এবং ৩০০ রান হলে বাংলাদেশকে ৪২.২ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাটিং করে, তবে হিসাব বেশ স্পষ্ট; জিম্বাবুয়েকে রান রেটে পেছনে ফেলতে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। যেমন, বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ৩০০ রান করলে আফগানিস্তানকে ২৫৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হবে। এই সমীকরণ মেলাতে পারলে জিম্বাবুয়ে বাদ পড়বে এবং আগামী ২৩ অক্টোবরের ফাইনালে আবারও আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করে আফগানিস্তানকে ২১৮ রান বা তার চেয়ে বেশি বিশাল ব্যবধানে হারাতে পারে, তবে আফগানদের নেট রান রেট সবার নিচে নেমে যাবে এবং ফাইনালের লড়াইটি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে। তাই ২৩ অক্টোবরের ফাইনালের টিকিট পেতে হলে প্রথম ম্যাচের ভুল শুধরে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।