ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির বিদায় বলতেই ভেসে ওঠে এক যুগের অবসান, আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে ফুটবলবিশ্বে বইছে তুমুল উত্তেজনা। ঘরের মাঠে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতে মোট তিনটি ম্যাচে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ভক্তদের নজর মূলত একটি বিশেষ ম্যাচের ওপর। বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে নামবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। প্রিয় নায়কের বিদায়কে অবিস্মরণীয় ও উৎসবমুখর করে তুলতে প্রস্তুত পুরো দেশ, তবে এই বিরল ইতিহাসের অংশ হতে গুণতে হবে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) উন্মোচন করেছে বহুল প্রতীক্ষিত এই তিন ম্যাচের টিকিটের মূল্য তালিকা। সূচি অনুযায়ী, মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে বলিভিয়া এবং মনুমেন্টালে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে লড়ার পর আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই বেনিন ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে জাতীয় দলে মেসির শেষ লালিত্যময় অধ্যায়। ঐতিহাসিক এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করতে সাধারণ দর্শকদের জন্য সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি। ফলে মেসিকে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা কেবল আবেগ নয়, দারুণ এক খরচে পরিণত হয়েছে।
মেসির শেষ প্রদর্শনী সরাসরি প্রত্যক্ষ করার মূল্যে শিশুদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও তা সাধারণের নাগালের বাইরেই থাকছে। ৩ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ডলার। এদিকে স্টেডিয়ামের ক্যাটাগরি ও অবস্থানভেদে প্রিমিয়াম সিটগুলোর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে জ্যোতিশ্চুম্বী পর্যায়ে। সিভোরি অ্যান্ড সেন্টেনারিও আপার স্ট্যান্ডের টিকিট মিলবে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। এর থেকে ভালো ভিউ পেতে সিভোরি অ্যান্ড সেন্টেনারিও মিডল স্ট্যান্ড এবং স্যান মার্টিন ও বেলগ্রানো আপার স্টলের জন্য খরচ হবে ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। আরও কাছাকাছি আসনে খেলা দেখতে চাইলে স্যান মার্টিন ও বেলগ্রানো লোয়ার স্টলের জন্য গুণতে হবে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর স্টেডিয়ামের সেরা ভিউ প্রদানকারী স্যান মার্টিন ও বেলগ্রানো মিডল টায়ারের এক-একটি টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে অবিশ্বাস্য ৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন ঘড়ির কাঁটায়। টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হবে স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৩টা)। বিপুল চাহিদা ও আকাশছোঁয়া মূল্যের মাঝেও টিকিটের জন্য এক রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধের অপেক্ষা করছে বিশ্ব ফুটবলের ভক্তকুল, কারণ মূল্য যাই হোক না কেন, মেসির শেষ জাদুকরী মুহূর্তের সাক্ষী থাকার সুযোগ তো মিলবে কেবল একবারই।