ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশকে ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান স্বর্ণবিজয়ী ভারত। জাপানের নিশিনে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে শেফালি ভার্মার বিধ্বংসী প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবং স্মৃতি মান্ধানার বিশ্বরেকর্ডের ওপর ভর করে ১৯৫ রানের রানের পাহাড় গড়ে ভারতীয় নারীরা। জবাবে ভারতী স্পিন আক্রমণের সামনে দিক হারিয়ে ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকেন ভারতের দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। পাওয়ার প্ল্রে ৬ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৭২ রান তুলে নেন তারা। ১৯ বলে ৩৭ রান করে মান্ধানা বিদায় নেওয়ার আগে নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হিসেবে নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে অতিক্রম করেন। সেই সঙ্গে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন ৩০ বছর বয়সী এই ওপেনার।
অন্যপ্রান্তে শেফালি ছিলেন আরও আগ্রাসী। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি তিনি। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরের (৩৩ বলে ৪০) সঙ্গে ৫৫ বলে ৯৪ রানের এক গতিশীল জুটি গড়ে তোলেন। ইনিংসের শেষ বলে দলের স্কোর দুইশ করার ঝুঁকি না নিয়ে বুদ্ধিদীপ্তভাবে নিরাপদে ১ রান নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি নিশ্চিত করেন ২২ বছর বয়সী শেফালি। অপরাজিত ৪৯ বলের এই টর্নেডো ইনিংসে তিনি ৩টি চারের পাশাপাশি হাঁকান ৯টি ছক্কা। এই ৯টি ছক্কার মাধ্যমে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে দেয়ান্দ্র ডটিনের পাশে বসলেন শেফালি। একইসঙ্গে চলতি বছরে মোট ৩৫টি ছক্কা মেরে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি, পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় ও বিশ্বের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার শতক স্পর্শ করেন।
ভারত ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বাংলাদেশের সানজিদা আক্তার মেঘলা ২৫ রানে ১ উইকেট নিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও নাহিদা আক্তার (৪৮ রান), মারুফা আক্তার (৪৩ রান) ও রাবেয়া খান (৩৫ রান) ছিলেন বেশ ব্যয়বহুল। ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড নিজের নামে লেখান বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা।
১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলিংয়ের তোপে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৩ উইকেট হারানোর পর দলীয় ৫৬ রানের মধ্যে প্রথম ৭ ব্যাটারের বিদায় ঘটে। দলের টপ ও মিডল অর্ডারের মধ্যে কেবল ওপেনার দিলারা আক্তার (২৩ বলে ২৭) এবং শারমিন আক্তার সুপ্তা (২০ বলে ১০) দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছিলেন। শেষদিকে সুলতানা খাতুনের ৮ বলে ১২ রানের অপরাজিত ইনিংসে বাংলাদেশ সবকটি উইকেট হারিয়ে ৮১ রান তুলতে সক্ষম হয়। ভারতের হয়ে দিপ্তি শর্মা ৭ রানে ৩টি এবং নন্দিনী শর্মা ২৫ রানে ৩টি উইকেট নেন।
এই হারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ১০টি এবং মোট ২৬ ম্যাচের মধ্যে ২২টি জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল ভারত। ২০২৩ সালের পর ভারতকে আর হারাতে পারেনি বাংলাদেশ দল। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এটি রান বিবেচনায় নিউ জিল্যান্ডের (১৩২ রান) পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাজয়।
ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হলেও নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের সামনে এখনো পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতি ও তাঁর দলের জন্য সম্মান পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ।