ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর 'রাউন্ড অব থার্টিটু'-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো বেলজিয়াম ও সেনেগাল। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও শেষ রক্ষা হলো না সেনেগালের। অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বের পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে সেনেগাল। ফলস্বরূপ, ম্যাচের ২৪ মিনিটে এইচ দিয়ারার চমৎকার কোলে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আফ্রিকান দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে ভেদ করে ৫১ মিনিটে সেনেগালের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন আই সার। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকেই যাচ্ছিল বেলজিয়াম। কিন্তু ম্যাচের শেষভাগে শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ। ৮৬ মিনিটে আর লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামের ব্যবধান কমান (২-১)। এর ঠিক ৩ মিনিট পর, ৮৯ মিনিটে ওয়াই লেমানসের জাদুকরী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ২-২ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে, ১২০+৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় বেলজিয়াম। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়সূচক গোলটি করেন ওয়াই তিলেমানস। আর তাতেই ৩-২ গোলের মহানাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রেড ডেভিলসরা।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
পুরো ম্যাচ জুড়ে দুই দলের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে বল পজেশন এবং শটের লড়াই ছিল দেখার মতো। ম্যাচে বেলজিয়াম মোট ২১টি শট নেয়, যার মধ্যে ৫টি ছিল শটস অন টার্গেট। অন্যদিকে সেনেগাল ১৯টি শট নিলেও তাদেরও ৫টি শট ছিল অন টার্গেট। বল পজেশনের দিক থেকে বেলজিয়াম কিছুটা এগিয়ে ছিল ৫৩% পজেশন নিয়ে, যেখানে সেনেগালের দখলে ছিল ৪৭% বল। বেলজিয়াম পুরো ম্যাচে ৮৯% পাস অ্যাকুরেসিতে মোট ৬২৯টি পাস সম্পন্ন করে, বিপরীতে সেনেগাল ৮৬% পাস অ্যাকুরেসিতে খেলেছে ৫৫৩টি পাস। ফাউলের দিক থেকে বেলজিয়াম কিছুটা আগ্রাসী ছিল, তারা মোট ২২টি ফাউল করে এবং সেনেগাল করে ১১টি ফাউল। দুই দলের খেলোয়াড়রাই ১টি করে ইয়েলো কার্ড দেখেন এবং ম্যাচে কোনো রেড কার্ড ছিল না। এ ছাড়া উভয় দলই ২টি করে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে, যেখানে কর্নারের দিক থেকে বেলজিয়াম ৪টি এবং সেনেগাল ২টি কর্নার আদায় করে নেয়।