ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইরাককে অনায়াসে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ 'আই'-এর এই ম্যাচে এশিয়ান পরাশক্তি ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পায় ফরাসিরা। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থান (১ম) নিশ্চিত করে নকআউট স্টেজে গেল ফ্রান্স, অন্যদিকে পরাজয়ের তিক্ততা নিয়ে টেবিলের তলানিতে (৪র্থ) রয়েছে ইরাক।
প্রথমার্ধেই লিড, গোল করলেন এমবাপ্পে
ম্যাচের শুরু থেকেই ইরাকের রক্ষণভাগের ওপর চেপে বসে ফরাসি ফরোয়ার্ডরা। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পুরস্কার পেতেও বেশি সময় লাগেনি তাদের। ম্যাচের ঠিক ১৪ মিনিটে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে চমৎকার এক গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধে ইরাক ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফরাসিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া আঘাত ও ম্যাচ সিল
বিরতির পর ফিরে এসে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোলের পর ম্যাচ পুরোপুরি ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এর ঠিক ১২ মিনিট পর, অর্থাৎ ৬৬ মিনিটে ওসমানে দেম্বেলে ইরাকের জালে বল পাঠালে ফ্রান্সের ৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
ম্যাচ স্ট্যাটস: একচ্ছত্র আধিপত্য ফ্রান্সের
পুরো ম্যাচের স্ট্যাটিসটিক্স বা পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ফ্রান্সের একচ্ছত্র আধিপত্য স্পষ্ট দেখা যায়:
শটস ও শটস অন টার্গেট: ফ্রান্স পুরো ম্যাচে মোট ১৯টি শট নেয়, যার মধ্যে ৫টি ছিল শটস অন টার্গেট (সব কটিই লক্ষ্যে ছিল)। বিপরীতে ইরাক মাত্র ৪টি শট নিতে সক্ষম হলেও একটিও শটস অন টার্গেট করতে পারেনি।
পজেশন ও পাসিং: ম্যাচের ৫৬% পজেশন বা বল নিয়ন্ত্রণ ছিল ফ্রান্সের কাছে, আর ইরাকের ছিল ৪৪%। ফ্রান্স মোট ৫৮৬টি পাস খেলে ৯১% পাস অ্যাকুরেসি বজায় রেখেছে, যেখানে ইরাক ৪২০টি পাসের মধ্যে ৮৬% পাস অ্যাকুরেসি ধরে রাখতে পেরেছিল।
ফাউল ও কার্ড: ম্যাচে কিছুটা শারীরিক ফুটবল দেখা গেছে। ফ্রান্স ৮টি ফাউল করলেও কোনো হলুদ বা লাল কার্ড পায়নি। অন্যদিকে ইরাক ৪টি ফাউল করে ১টি ইয়োলো কার্ড বা হলুদ কার্ড দেখেছে।
কর্নার ও অফসাইড: ফ্রান্স ৪টি কর্নার এবং ১টি অফসাইড পেলেও ইরাক মাত্র ২টি কর্নার আদায় করতে পেরেছে এবং কোনো অফসাইড ছিল না।
অফ-টার্গেট ও অন-টার্গেটের এই বিশাল ব্যবধানই বলে দেয় পুরো ম্যাচ জুড়ে ইরাকের ডিফেন্সকে কতটা ব্যস্ত রেখেছিল ফ্রান্সের আক্রমণভাগ। এই দুর্দান্ত জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করলো ফরাসিরা।