প্রথমার্ধের শেষ মূহুর্তের গোলে সমতায় ফেরে কঙ্গো ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'কে'-এর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো পর্তুগাল ও কঙ্গো। ম্যাচে আক্রমণের ঝড় তুলে এবং বল দখলে একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েও জয় তুলে নিতে পারেনি পর্তুগাল। রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় পর্তুগিজদের রুখে দিয়ে ১-১ গোলের সমতায় মূল্যবান ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল কঙ্গো, আর দ্বিতীয় স্থানে রইল পর্তুগাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। তার ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় জোয়াও নেভেসের চমৎকার এক গোলে লিড নেয় পর্তুগিজরা। গোল খেয়ে রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৫ মিনিটে) পর্তুগাল ডিফেন্সের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে গোল সমতায় ফেরান কঙ্গোর ওয়াই. উইসা। ১-১ গোলের সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও কঙ্গোর ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি পর্তুগাল। ম্যাচে পর্তুগিজ তারকা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছিলেন প্রাণহীন। তিনটি এক্সপেক্টেড গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবে ম্যাচ শুরু করতেই দুটি বিশ্বকাপ রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বকাপে ম্যাক্স শুরু করা সবথেকে বয়স্ক খেলোয়াড় তিনি (৪১ বছর)। একই সাথে টানা ৬টি বিশ্বকাপে এপিয়ারেন্সে সবথেকে বয়স্ক খেলোয়াড়ও ক্রিস্টিয়ানো।
পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রেকর্ড ৭৫ শতাংশ বল পজিশন ছিল পর্তুগালের পায়ে, যেখানে ডিআর কঙ্গোর দখলে ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। পর্তুগাল যেখানে ৯৩ শতাংশ পাস অ্যাকুরেসি নিয়ে ৭৬৯টি পাস সম্পন্ন করেছে, সেখানে কঙ্গো করতে পেরেছে মাত্র ২২২টি পাস। আক্রমণেও কিছুটা এগিয়ে ছিল পর্তুগিজরা; তাদের নেওয়া ৯টি শটের মধ্যে ৩টি ছিল শটস অন টার্গেট, বিপরীতে কঙ্গো ৮টি শটের মধ্যে ২টি টার্গেটে রাখতে সক্ষম হয়। এছাড়া কর্নার পাওয়ার ক্ষেত্রেও ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল।
ম্যাচটিতে দুই দলই সমান ৯টি করে ফাউল করেছে। তবে ফাউলের বিপরীতে পর্তুগালকে ৩টি ইয়োলো কার্ড দেখতে হয়েছে, যেখানে কঙ্গো পেয়েছে মাত্র ১টি ইয়োলো কার্ড। ম্যাচে কোনো রেড কার্ডের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া অফসাইডের ফাঁদে পর্তুগাল পড়েছে ৩ বার এবং কঙ্গো পড়েছে ২ বার।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। বল পজিশন ও পাসের ফুলঝুরি ফুটিয়েও পূর্ণ ৩ পয়েন্ট না পাওয়ায় নিশ্চিতভাবেই হতাশ হবে পর্তুগাল শিবির, পক্ষান্তরে জায়ান্টদের আটকে দিয়ে ফুরফুরে মেজাজেই মাঠ ছেড়েছে ডিআর কঙ্গো।