ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে দারুণ এক শটে ব্যবধান ২-০ করেন অস্ট্রেলিয়ান মিডফিল্ডার কনর মেটকাফ ছবি: রয়টার্স
২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছিল তুরস্ক। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাবর্তনের আনন্দ মাটি করে দিল অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ 'ডি' এর উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের ওপর ভর করে তুরস্ককে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে সকারুরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল দুটি করেছেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তুরস্ক। তবে অস্ট্রেলিয়ার সুসংগঠিত রক্ষণব্যূহ ভাঙতে পারছিল না তারা। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে তুরস্কের ২১ বছর বয়সী প্লেমেকার আরদা গুলারের একটি ভলি চমৎকারভাবে রুখে দেন অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
ঠিক তার পরের আক্রমণেই লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া। পল ওকন-এংস্টলারের পাস থেকে বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরকান চাকিরকে পরাস্ত করেন গতিময় ফরোয়ার্ড ইরানকুন্ডা। এর তিন মিনিট পর আব্দুলকেরিম বারদাকচির একটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লাগিয়ে ম্যাচ সমতায় ফেরানো থেকে বঞ্চিত হয় তুরস্ক।
তুরস্ক পুরো ম্যাচে ৭৮% বল দখলে রেখেছিল এবং গোলের জন্য মোট ৩০টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৮টি ছিল অন-টার্গেট। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার জমাট ডিফেন্সের সামনে তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধেও তুরস্কের আক্রমণের চাপ সামলে প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে থাকে টনি পপোভিকের শিষ্যরা। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে তুরস্কের সব আশা শেষ করে দেন কনর মেটকাফ। দূর থেকে নেওয়া তার একটি বাউন্সিং শট জালে জড়ালে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ান কোচ টনি পপোভিক খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, বল দখলে এগিয়ে থেকেও গোল না পাওয়ার হতাশায় পুড়ছেন তুরস্কের কোচ ভিনসেনজো মন্তেল্লা। তবে গ্রুপ পর্বে এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি।
এই জয়ের পর গ্রুপ 'ডি' এর পয়েন্ট টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পেছনেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষে রয়েছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১৯ জুন সিয়াটলে মুখোমুখি হবে এই দুই শীর্ষ দল।