Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশের মেয়েরা

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে,২০২৬, ১০:১৬ পিএম
মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশের মেয়েরা

প্রথম গোলটি করেন আনিকা ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপের বিপক্ষে সাফে আগের তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশের দাপটের সঙ্গে জিতেছে। তবে গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এবার দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র। ম্যাচের ১১ সেকেন্ডে গোল করে বড় ব্যবধানের জয়ের সুবাস যখন মিলছিল, সেখান থেকেই খেই হারিয়ে ফেলা। রক্ষণের ভুল আর অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে দুই গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলে মালদ্বীপ।

তবে শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধান নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে মারিয়া মান্দাদের। টানা দুই ম্যাচ হেরে বাদ পড়েছে মালদ্বীপ।

ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল রূপকথার মতো। ভারতের রেফারি কামানি রচনা মাত্রই ম্যাচ শুরুর বাঁশিটা বাজিয়েছেন । চোখের পলক ফেলার আগেই ঘড়ির কাঁটায় মাত্র ১১ সেকেন্ডে মালদ্বীপের জালে বল পাঠিয়ে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়লেন সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। আর এই রকেট গতির শুরুর পর বড় প্রশ্ন উঠছে, আনিকার এই গোলটাই কি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম? নিখুঁত রেকর্ডের অভাব থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ তো বটেই এমনকি সাফ পুরুষ ও নারী ফুটবল মিলিয়েও এটিই দ্রুততম গোল হতে পারে।

কিক-অফ থেকে বল পেয়েই অধিনায়ক মারিয়া মান্দা নিখুঁত এক পাসে খুঁজে নেন উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমাকে। ঋতুপর্ণা বক্সে বল ঠেলতেই সেখানে ওত পেতে থাকা আনিকা দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জড়ান জালে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই আনিকার প্রথম গোল।

জাতীয় দলের হয়ে এর আগে খেলেছেন মাত্র ৩টি ম্যাচ, সেটাও গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে। মাঠে ছিলেন ১১৩ মিনিট।

প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার পর তৃতীয় ম্যাচে পার্থে একাদশে সুযোগ মেলে। আজ মালদ্বীপের বিপক্ষে কোচ পিটার বাটলার নিয়মিত স্ট্রাইকার তহুরা খাতুনকে বেঞ্চে রেখে আনিকাকে নামিয়ে দিলেন স্ট্রাইকার হিসেবে, নয় নম্বর জার্সিতে। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে আনিকা সময় নেন মাত্র ১১ সেকেন্ড!

কিন্তু দ্বিতীয় গোল আর আসছিল না। বাংলাদেশের আক্রমণভাগ তালগোল পাকিয়ে ফেলেছিল। প্রথম গোল খাওয়ার পর হতচকিত মালদ্বীপের গোলকিপার ফাতহিমাত সাওসান অবশ্য বেশ কিছু ভালো সেভ করেছেন। অবশেষে ৩৪ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন উমেলাহ মারমা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে অসাবধানতাবশত গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। গোলকিপার মিলি কিছুটা সামনে এগিয়ে ছিলেন, তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বল চলে যায় জালে। প্রথমার্ধে এটিই ছিল বাংলাদেশের পোস্টে মালদ্বীপের প্রথম শট, যেখানে গোলকিপার মিলির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

গত ২৫ মে টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে শুরু করেছে স্বাগতিক ভারত। সেই ভারতকে টপকে গ্রুপ সেরা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে বাংলাদেশের দরকার ছিল আরও বড় ব্যবধানের জয়। তবে ম্যাচের আগের দিন কোচ পিটার বাটলার বলেছিলেন, গোলের ব্যবধান বাড়ানোর দিকে ছুটবে না বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি তো আসলে মুখের কথা, বাস্তবে গোল তো বেশি বেশি চেয়েছে বাংলাদেশ।

খেলাও বলতে গেলে মালদ্বীপের সীমানাতেই হয়েছে, কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে ঠিকঠাক আক্রমণ গুছিয়ে উঠতে পারছিলেন না মেয়েরা। বাঁ প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণা অনবরত চেষ্টা করলেও বেশির ভাগ সময় তাঁর পরিকল্পনাগুলো মাঠে সফল হচ্ছিল না। মালদ্বীপ বেশ পরিকল্পনা করেই নেমেছে।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ হওয়া বা প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের ১১ জন খেলোয়াড় নিচে নেমে একদম রক্ষণাত্মক খেলার কারণেই হয়তো এই ছন্দহীনতা দেখা গেছে। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশকে খুব একটা গোছানোও লাগেনি।

জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের ১৯ হাজার ধারণক্ষমতার গ্যালারিতে খেলা দেখার সুযোগ ছিল টিকিট ছাড়াই। তা সত্ত্বেও গ্যালারি ছিল পুরো ফাঁকা। তবে শূন্য গ্যালারিতেও নজর কেড়েছেন বাংলাদেশ থেকে আসা একমাত্র ফুটবল সমর্থক খোরশেদ মাতবর আলমগীর। ভিআইপি বক্সে ছিলেন জনা ছয়েক রুশ নাগরিক। লাভ চিহ্ন আঁকা ‘বাংলাদেশ’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে তাঁরা মেয়েদের সমর্থন জোগাতে এসেছিলেন, যা ছিল গ্যালারির অন্যতম সুন্দর এক দৃশ্য।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ গোলের ব্যবধান বাড়াবে কি, উল্টো আফঈদার দুর্বল ডিফেন্ডিংয়ের খেসারত দিয়ে আরও একটি গোল খেয়ে বসে। বল সহজে জালে প্লেসিং করেন আমিনাত ফাজলা। স্কোরলাইন তখন অবিশ্বাস্যভাবে ২-২! এই গোলের পর মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের উল্লাস ছিল দেখার মতো। যে দলকে বরাবর হেসেখেলে হারিয়ে এসেছে বাংলাদেশ, সেই দলের বিপক্ষে ড্রয়ের শঙ্কায় পড়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে তুলে নিয়ে সাগরিকাকে নামানো হয়েছিল। জুনিয়রের একটি শট অবশ্য ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, তবে পুরো ম্যাচে তাঁকে চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। ২-২ গোল হওয়ার পর কোচ বাটলার দ্রুত ব্যবস্থা নেন। আনিকাকে তুলে নামান তহুরা খাতুনকে।

তাতে অবশ্য গোল পেতে বেশি দেরি হয়নি। ৬৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিখুঁত এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলের স্বস্তির জয় এনে দেন বদলি হিসেবে নামা সুরভী আকন্দ প্রীতি। ম্যাচের শেষ বাঁশির আগে বাংলাদেশ পায় আরও একটি গোল।

শেষ পর্যন্ত ৩ পয়েন্ট পেলেও মালদ্বীপের বিপক্ষে এই কষ্টার্জিত জয় আর অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশনের শুরুতেই বাংলাদেশকে বড় একটা সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)