বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত ওজোন স্তরকে বলা চলে পৃথিবীর নিজস্ব সুরক্ষা ঢাল। সূর্যের বিপজ্জনক অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মিকে সরাসরি বায়ুমণ্ডলে ঢুকতে না দিয়ে এটি প্রতিনিয়ত আমাদের রক্ষা করে চলেছে। যদি এই রশ্মি অবাধে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, তবে মানুষের চোখে ছানি পড়া বা দৃষ্টিশক্তি কমার পাশাপাশি ত্বকের মারণরোগ ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিজ্ঞানীরা প্রথম চমকে ওঠার মতো তথ্য পান—পৃথিবীকে ছাতার মতো ঘিরে রাখা এই ওজোন স্তরে বড় ধরনের ফাটল বা ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এরপর চার দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সেই ক্ষত পুরোপুরি নিরাময় হয়নি। বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ওপরের বায়ুমণ্ডলে এই ছিদ্রের ব্যাপ্তি ছিল সবচেয়ে বেশি ও আশঙ্কাজনক। এছাড়া মাঝে মাঝে উত্তর মেরুর ওপরের ওজোন স্তরেও ক্ষণস্থায়ী ছিদ্রের সৃষ্টি হতে দেখা যায়।
তবে এবার পরিবেশ ও মানবজাতির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর নিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NOAA) যৌথ পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, অ্যান্টার্কটিকার ওপর জমে থাকা ওজোন স্তরের সেই বিশাল ছিদ্রটি দিন দিন ছোট হয়ে আসছে।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওজোন স্তরের ছিদ্রটি যে আকারে নেমে এসেছে, তা রেকর্ডের ইতিহাসে পঞ্চম সর্বনিম্ন ক্ষুদ্রতম ছিদ্র। ২০০৬ সালের সর্বোচ্চ আকারের তুলনায় এই ছিদ্রটি বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ সংকুচিত হয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাপী ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর যৌথ পদক্ষেপ এবং পরিবেশ রক্ষায় বৈশ্বিক সচেতনতার ফলেই পৃথিবীর এই প্রাণরক্ষাকারী আবরণটি ধীরে ধীরে নিজেকে পুনঃগঠন করতে পারছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।