বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
যেমন হবে ওয়ানপ্লাস ১৬ এর ডিজাইন ছবি: এক্সলিকস
স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের চমক নিয়ে আসছে ওয়ানপ্লাস। প্রতিষ্ঠানটির আগামী ফ্ল্যাগশিপ ফোন ‘ওয়ানপ্লাস ১৬’-এ যুক্ত হতে যাচ্ছে এক অনন্য লাইটিং প্রযুক্তি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারস্টেলার লাইটিং ইফেক্ট’ (Interstellar Lighting Effect)। উদ্ভাবনী এই ফিচারটি ফোনের ব্যাক প্যানেল বা পেছনের গ্লাসের নির্দিষ্ট তিনটি অংশে নজরকাড়া আলোর নকশা ফুটিয়ে তুলবে।
ফোনের ক্যামেরা মডিউলের ঠিক পাশে ওপরের ডান কোণায় জ্বলবে ‘X’ বা তারকার মতো একটি চিহ্ন। অন্যদিকে, নিচের বাম কোণায় আলোর ছটায় ভেসে উঠবে ‘16 AREA’ লেখাটি এবং নিচের ডান কোণায় দেখা যাবে বিভিন্ন গ্যালাকটিক কো-অর্ডিনেট বা গাণিতিক নম্বর। শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা নোটিফিকেশনে সাড়া দেবে এই আলো। কল বা মেসেজ আসলে, গান চলার তালে তালে, কিংবা চার্জিং স্ট্যাটাস দেখাতে এই লাইটগুলো চমৎকারভাবে জ্বলে উঠবে। এমনকি গেম খেলার সময় গেমের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে এবং অন্য আরেকটি ওয়ানপ্লাস ১৬ ডিভাইসের সংস্পর্শে আনলে এটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ উপায়ে ফ্ল্যাশ করবে। ইউজাররা তাঁদের পছন্দমতো অলওয়েজ-অন, ব্রিদিং, ফ্ল্যাশিং কিংবা ফ্লোয়িং—এই চারটি মোডে আলোর ব্রাইটনেস কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন। ওয়ার্ম অরেঞ্জ-ইয়েলো বা উষ্ণ কমলা-হলুদ রঙের এই আলো দিনের প্রখর রোদেও সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
তবে এই আকর্ষণীয় লাইটিং সুবিধাটি কেবল পাওয়া যাবে ফোনটির ‘টুমোরোজ স্টারলাইট সিলভার গ্রে’ কালার ভ্যারিয়েন্টে। বিশেষ এই সংস্করণের পেছনে একটি নান্দনিক টাইপোগ্রাফিক ও ন্যানো-গ্রেটিং টেক্সচার ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলোর প্রতিফলনে অনন্য রূপ নেয়। অন্য দুই ভ্যারিয়েন্ট ‘ডার্ক ফরেস্ট’ ও ‘মার্স ডেজার্ট’-এ এই লাইটিং ফিচার থাকছে না।
নান্দনিক ডিজাইনের পাশাপাশি ফোনটির হার্ডওয়্যারেও আনা হয়েছে শক্তিশালী ও ফ্ল্যাগশিপ সব ফিচার:
ডিসপ্লে: এতে থাকছে ৬.৭৮ ইঞ্চির একটি এলটিপিও ওএলইডি (LTPO OLED) ডিসপ্লে। স্মার্টফোনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ফোনে পুরো সিস্টেম জুড়ে সর্বোচ্চ ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করবে।
পারফরম্যান্স ও মেমোরি: প্রসেসর হিসেবে এতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফ্ল্যাগশিপ স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৬ প্রো (Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro) চিপসেট। মেমোরি অপশনে মিলবে ১২ জিবি থেকে ১৬ জিবি পর্যন্ত র্যাম এবং ২৫৬ জিবি থেকে ১ টিবি পর্যন্ত সুবিশাল স্টোরেজ।
ক্যামেরা: ফটোগ্রাফি প্রেমিদের জন্য এর মূল আকর্ষণ ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর। ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপে শক্তিশালী পেরিস্কোপ লেন্সও অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং: ফোনটিতে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে থাকছে ওয়ানপ্লাসের গ্লেসিয়ার প্রযুক্তি চালিত বিশাল ৯,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। দ্রুত চার্জের জন্য দেওয়া হয়েছে ১০০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট।
হাই-এন্ড এসব ফিচারের সমন্বয়ে তৈরি ওয়ানপ্লাস ১৬-এর আনুমানিক সম্ভাব্য দাম বাংলাদেশে প্রায় ১,০০,০০০ টাকা বা তার কিছুটা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।