বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
বিশাল গর্গ ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন মর্টগেজ প্ল্যাটফর্ম ‘বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স’-এর শীর্ষ পদ থেকে অবশেষে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশাল গর্গকে। ২০২১ সালে একক জুম কলে ৯০০ কর্মীকে মুহূর্তে ছাঁটাই করে বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেই বিতর্কিত চ্যাপ্টার পেরিয়ে এবার নিজের চেয়ার হারিয়ে আইনি যুদ্ধে নেমেছেন তিনি।
গত ৩ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদের এক সিদ্ধান্তে বিশাল গর্গকে সিইওর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ হেজ ফান্ড ম্যানেজার ড্যানিয়েল লুইস। তবে পর্ষদের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি গর্গ। তাঁর দাবি, লুইস কৌশলে তাঁকে সরিয়ে এই পদের দখল নিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ছয় মাস আগে বেটারের খরচ কমানো ও ব্যবসায়িক লাভ বৃদ্ধির নানা রূপরেখা নিয়ে গর্গের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন লুইস। এভাবেই ধীরে ধীরে পরিচালনা পর্ষদের মন জয় করে নেন তিনি। গত ২৭ জুলাই বোর্ডে সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় অন্য পরিচালকদের প্রভাবিত করে গর্গের স্থলে নিজেকে সিইও হিসেবে অধিষ্ঠিত করেন। গর্গের মতে, লুইসের মূল লক্ষ্যই ছিল সিইও হওয়া এবং পরিচালনা পর্ষদ প্ররোচিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হারানো পদ ফিরে পেতে ল ফার্ম ‘কুইন ইমানুয়েল’-এর প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যালেক্স সাপিরোকে নিয়োগ করেছেন গর্গ। পর্ষদকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অবিলম্বে তাঁকে পুনর্বাহালের দাবি জানানো হয়েছে। গর্গের ভাষ্য, গত এক দশকে তাঁর ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এখনও অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারি চলাকালীন ২০২১ সালে গর্গের এক সিদ্ধান্তের কারণে তোপাড় শুরু হয়েছিল পুরো করপোরেট বিশ্বে। এক জুম মিটিংয়ে যুক্ত হয়ে কোম্পানির প্রায় ৯ শতাংশ অর্থাৎ ৯০০ কর্মীকে এক লহমায় চাকরিচ্যুত করেন তিনি। বাজারের অস্থিরতা, কর্মীদের কম উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার দোহাই দিয়ে ওই গণছাঁটাই চালানো হয়, যার বলি হয়েছিল প্রতিষ্ঠানের পুরো ডাইভারসিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন (DEI) টিমও।
শুধু ছাঁটাই করেই ক্ষান্ত হননি, পরবর্তীতে বরখাস্ত হওয়া আরও ২৫০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অর্থ চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন গর্গ। তাঁর দাবি ছিল, ওই কর্মীরা কাজের সময় ভুয়া দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়েছেন। একসময় নির্বিচারে কর্মী ছাঁটাই ও অভিযোগের তির ছোড়া সেই বিশাল গর্গই এখন নিজের পদ ও অস্তিত্ব বাঁচাতে আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেলটা লেন্স