❒ খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
এম জামান
যশোরে নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া সড়কের বেহাল দশা ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। ১ কিলোমিটার সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সামান্য বৃষ্টিতেই কোথাও পানি জমছে, কোথাও সৃষ্টি হচ্ছে কাদা। অন্যদিকে, সড়কটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শহরের মনিহার চত্বরে যানবাহনের চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া সড়কটি বকচর এলাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প পথ। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর খুলনা, নওয়াপাড়া, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহনে সড়কটির গুরুত্ব বেড়েছে। এ পথ দিয়ে নড়াইল হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক।
কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও সড়কের অংশ দেবে গিয়ে উঁচু-নিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মালামালবোঝাই ট্রাক, পিকআপ, নসিমন ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। চালকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত রয়েছে। এসব গর্তের কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চালানোর সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। সড়কের পাশের দোকানগুলোতেও ধুলাবালুর কারণে ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অথচ প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন এই পথ ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে অনেক চালক বিকল্প পথ হিসেবে শহরের মনিহার চত্বর দিয়ে চলাচল করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া সড়কটি সংস্কার করা হলে ভারী যানবাহন চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি শহরের ভেতরে যানজটের চাপ কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
ট্রাক চালক আলমগীর হোসেন জানান, “আমি এই পথ দিয়ে মাছ নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। মাছ বিক্রি করে আবার ফিরেছি। রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও আমাদের এই পথ দিয়ে চলাচল করতে হয়। মনিহার দিয়ে যেতে অনেক সময় লাগে। সেখানে যানজটও হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বাধ্য হয়েই এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
পথচারী জসীমউদ্দীন জানান, “এ রাস্তাটি ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন কয়েক শ ট্রাক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ৪০ থেকে ৬০ টন ওজনের গাড়িও যায় এ পথে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন আগেও একটি গাড়ি উল্টে পাঁচ থেকে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশের দোকানগুলো ইট ও বালুর ধুলায় ভরে যায়। কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই বিপাকে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির দুরবস্থার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গর্তে পড়ে যানবাহনের ভারসাম্য হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা হলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও সড়কটির টেকসই সংস্কার করা হয়নি। তাঁরা সড়কটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়ক দখল কিংবা অনুমোদন ছাড়া সড়কের উচ্চতা পরিবর্তনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, সড়কটি সংস্কার করা হলে স্থানীয় মানুষের চলাচল সহজ হবে, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে মনিহার চত্বরে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ কমাতেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, “খুব দ্রুতই এ রাস্তাটির কাজ শুরু হবে বলে আশা করি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রাস্তাটি বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে সড়কটিতে যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়েছে।”
সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।