Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আসামে ২ দিনে ১১০০ পরিবার উচ্ছেদ, ভাঙা হয়েছে ১০ মসজিদ

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
আসামে ২ দিনে ১১০০ পরিবার উচ্ছেদ, ভাঙা হয়েছে ১০ মসজিদ

বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদের পর অস্থায়ী শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় রাজ্য সরকারের এক ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানে দুই দিনে ১১ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশই বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর আসাম প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ অভিযান চালানো হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য স্ক্রল’-এর প্রতিবেদন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম দিনেই তিন জেলা মিলিয়ে ৫৪৭টি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যার মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার ছিল। এরপর দ্বিতীয় দিন রোববার নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একযোগে আরও প্রায় ৬০০টি মুসলিম পরিবারের বসতি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় প্রশাসন। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে লুতুমারি বনাঞ্চলের প্রায় ৩০০ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করে আসছিল। তবে উচ্ছেদের শিকার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীরা এই বেআইনি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা জোরপূর্বক বা অবৈধভাবে জমি দখল করেননি, বরং আশপাশের জুরিয়া অঞ্চলের ভূমিহীন নদীভাঙনকবলিত মানুষ হওয়ায় ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকার নিজেই তাদের চার বিঘা করে জমি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লুতুমারি বনাঞ্চল এলাকায় বসতি গড়ে দিয়েছিল। লুতুমারির ৪৪ বছর বয়সী অধিবাসী আবদুন নূর জানান, তাদের পূর্বপুরুষেরা এখানে বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছেন। উচ্ছেদ ঠেকাত তারা গৌহাটি হাইকোর্টে মামলা লড়েছিলেন হলেও সেখান থেকে কোনো আইনি প্রতিকার পাননি। নূরের অভিযোগ, এই অভিযানে তাদের বসতবাড়ির পাশাপাশি অঞ্চলের ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ‘অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপলস’ নামের একটি সংগঠন আসাম সরকারকে এই এলাকার অধিবাসীদের পরিকল্পিত উচ্ছেদ বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছিল। সংগঠনটির মতে, ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে চালু হওয়া ‘টংগিয়া’ বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় এসব পরিবারকে বনাঞ্চলে রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রজা ও শ্রমিকরা বন বিভাগের হয়ে বাণিজ্যিক বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি নিজস্ব খাদ্যশস্য চাষ করার সুযোগ পেতেন। ফলে তাদের সাধারণ দখলদার বা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা অনুচিত। তা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বজায় থাকে। রাজ্য রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের নথিপত্রের ভিত্তিতে ‘দ্য স্ক্রল’-এর সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, আসামে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিগত ১০ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন সরকারি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার শিকার হওয়া মানুষের সিংহভাগই আসামের বাংলাভাষী মুসলিম।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)