নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার বিকেলে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত ‘ক্ষুদ্রঋণ খাতে কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার ও চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। এ মেলায় ৩৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং ২০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থীর সমাগম ঘটে। মেলা থেকে সরাসরি ১ হাজার ১১৫ জনকে তাৎক্ষণিক (স্পট) নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত থেকে নির্বাচিত চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
বক্তব্যে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "বর্তমানে মাইক্রোক্রেডিট খাতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা সাড়ে তিন লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ভাতা ও যুব উন্নয়ন কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ চালু করেছে। পাশাপাশি জনগণের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতেও সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে আইন মন্ত্রী বলেন, "এই সংশোধনী মূলত বয়োবৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। এটি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন এটি হেবা আইনের লঙ্ঘন, কিন্তু হেবা আইন স্পর্শ করার ক্ষমতা কারও নেই।"
তিনি পরিষ্কার করে জানান, ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন এই সংশোধনীতে স্পষ্ট বলা হয়েছে— হেবা বা অন্য যেকোনো ধর্মীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি হস্তান্তরে এটি কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। আইন না পড়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সবাইকে আইনটি পড়ে দেখার পরামর্শ দেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তার এবং আরআরএফের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস।