Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

অসুস্থ হওয়ায় প্রবাসীকে রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী-সন্তান, সেই জামাল মারা গেছেন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট,২০২৬, ১২:১১ এ এম
অসুস্থ হওয়ায় প্রবাসীকে রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী-সন্তান, সেই জামাল মারা গেছেন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাতের আঁধারে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত সেই অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। দুটি কিডনি বিকল হওয়া এই ব্যক্তিকে গত ১ আগস্ট গভীর রাতে তার স্ত্রী রাস্তায় ফেলে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জামাল উদ্দিনের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ আগস্ট গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় গত শুক্রবার তাকে হাসপাতাল থেকে পুনরায় ভাতিজির বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, তাদের বাড়িতে মাত্র একটি ঘর থাকায় জামাল উদ্দিনকে বারান্দায় রেখে সেবাযত্নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে সুস্থ করার অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গত ১ আগস্ট গভীর রাতে কালমেঘা এলাকায় পৈতৃক ভিটার কাছের একটি রাস্তায় জামাল উদ্দিনকে ফেলে রেখে যায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা। পরদিন সকালে স্থানীয়রা তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। একপর্যায়ে বৃষ্টি শুরু হলে ভাতিজি ইসমত আরা তাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার এই অমানবিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

জামাল উদ্দিনের পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে কালমেঘা গ্রামে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়িতে স্ত্রীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর সৌদি আরবে কাজ করেন।

নিহতের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ, প্রবাসে থাকা অবস্থায় উপার্জিত সব অর্থ স্ত্রীর নামেই দেশে পাঠিয়েছেন জামাল। কিন্তু তিন মাস আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানেরা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

তবে জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়ে গত ৩ আগস্ট তার স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছিলেন, আড়াই মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। আইনগতভাবে তিনি আর স্বামী না হওয়ায় তাকে গাড়িতে করে তার নিজ গ্রামে রেখে আসা হয়েছে।

জীবনের পুরো উপার্জন স্ত্রীর নামে পাঠিয়ে শেষ বয়সে এসে চরম অসহায়ত্বের শিকার হন জামাল উদ্দিন। বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে চাঁদা তুলে এই ব্যক্তির চিকিৎসার চেষ্টা করেছিলেন। এখন তার মৃত্যুর পর আবারও সবার কাছ থেকে টাকা তুলেই দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)