ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের সাতটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। কয়েকটি জেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু ও ঈদগাঁওসহ ১০টি উপজেলায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। চিরিংগা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম এবং জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানান, দুর্গতদের জন্য নগদ ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলা শহর ও লামা পৌরসভাসহ সাতটি উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটি, রুমা ও থানচির সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের কারণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম ও চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া সড়কে কয়েক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পানিতে ভেসে গিয়ে জেলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে চার হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে ১৫০ জনকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়িতে আনা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, তিন পার্বত্য জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় ১ হাজার ৩০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও সদরের নিম্নাঞ্চল এখনও জলমগ্ন। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি ধীরগতিতে কমছে। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়ক তলিয়ে থাকায় সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দীঘিনালার কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দীঘিনালার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ এবং জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জরুরি খাবার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চন্দনাইশের দোহাজারী এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এবং আঞ্চলিক সড়কগুলো ডুবে থাকায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে চট্টগ্রামের বাস চলাচল তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে আবদুল আলম (৩৬) নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আহমেদ।
নওগাঁয় ২০ ঘণ্টার রেকর্ড ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার চরের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হচ্ছে। মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাজনগর ও কমলগঞ্জে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ফসলি জমি ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কসহ বেশ কিছু সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জের খোয়াই নদী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের তিন উপজেলাতেও ধনু ও কালনী নদীর পানি বাড়ায় জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।