❒ ২০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর পৌরসভার ৭ নং শংকরপুর ওয়ার্ডের চোপদার পাড়া ও বারেক সড়ক এলাকার বর্তমান চিত্র। ছবি: আব্দুর রহিম টুটুল
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশের মতো যশোরেও দফায় দফায় ভারী ও হালকা বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ২০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টির কারণে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। এতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দেড় দশকে পৌর এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নিয়মিত সংস্কার কাজ চললেও টানা বর্ষণে শহরজুড়ে চেনা জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
আরো পড়ুন :
বৃষ্টিতে থমকে আছে জনজীবন, থাকবে আরও দুই দিন
যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া অফিস এবং ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২০ ঘণ্টায় যশোরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং আজ সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ছুটির দিনে এই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের খড়কি, বেজপাড়া, চাঁচড়া, শংকরপুর, আরবপুর, পালবাড়ি ও বকচর এলাকাগুলোতে বৃষ্টি নামলেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। খড়কি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান ও রাশিদুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে। ড্রেন থাকলেও পানি ঠিকমতো নামে না। একই এলাকার তাহমিনা খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টির সময় শিশুদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া খুব কষ্টকর। ঘরের সামনে হাঁটুপানি জমে থাকে।’
পৌরসভার তথ্য মতে, যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১.৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৯.২২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৬৯.২৫ কিলোমিটার ইটের গাঁথুনির ড্রেন, পাঁচ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন এবং ১২৮.৪৯ কিলোমিটার এখনো কাঁচা ড্রেন। অর্থাৎ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি অংশ এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, যা বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে বাধা তৈরি করছে।
চলতি অর্থবছরে শুধু ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় সাত কিলোমিটার নতুন আরসিসি ড্রেন নির্মাণে ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। প্রতি কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন ড্রেন প্লাস্টিক, পলিথিন, কাদা ও পচা বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় এবং কোথাও কোথাও তলদেশ পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।